
ফাতেহ ডেস্ক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
রোববার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সরকারের নির্দিষ্ট ছক ও নকশা অনুযায়ী হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জোটের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার আহ্বান জানানো হয়।
‘কিন্তু শুরু থেকেই একতরফা নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একতরফাভাবে সরকারি দলকে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করছে,’ বললেন ডা. শফিকুর।
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও সমতল মাঠ তৈরিতে ব্যর্থ হয়। এসব সত্ত্বেও আমরা আশাবাদী ছিলাম নির্বাচন কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে।
‘জনগণের সব প্রত্যাশাকে অবজ্ঞা করে গত ২৯ ডিসেম্বর রাতেই দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়।’
তিনি বলেন, আজ ভোট শুরুর সময় জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কোথাও কোথাও হামলা করা হচ্ছে এবং হামলা এখনও অব্যাহত আছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটারদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও ভোটাররা আক্রমণের শিকার হয়ে মারাত্মতকভাবে আহত হয়েছেন। দেশের সর্বত্রই নির্বাচনের নামে প্রহসনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
‘প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো নির্বাচনই নয়। নির্বাচনের নামে এটি একটি ব্যালট ডাকাতির প্রহসন এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটার ও সাধারণ জনতার ওপর সরকারের অব্যাহত হামলায় জনগণের জীবন আজ বিপন্ন। সর্বত্রই চলছে সশস্ত্র মহড়া। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ তো দূরের কথা জানমালের কোনোই নিরাপত্তা নেই।
‘এই একতরফা নির্বাচন কোনো অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না। তাই বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর যেসব প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও বয়কট করার ঘোষণা দিচ্ছি,’ বললেন এ জামায়াতে নেতা।
বিবৃতিতে এ নির্বাচন বাতিল করে ফের তফসিল ঘোষণা করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
