ফাসাদের উৎসব ও সামাজিক পরিবর্তন

ইফতেখার জামিল

এক
অধিকাংশ মানুষ সামাজিক পরিবেশ থেকেই বিশ্বাস গ্রহণ করে। সমাজের আচার ও অভ্যাসের মাধ্যমে রপ্ত করে নেয়,কী তার করণীয় আর বর্জনীয়। নবিজি বলেছেন, পরিবেশই মানুষের ফিতরত বা নৈতিকতা-অনৈতিকতা গ্রহণের ক্ষমতা দান করে বা নষ্ট করে। ফলে, ইসলাম ও ইসলামের দাওয়াত প্রচারের জন্য তো বটেই, যে কোনো আদর্শ প্রচারের জন্য সমাজকে ফেতনা, ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। বাঁচিয়ে না রাখা গেলে মানুষের মন কঠিন হয়ে যায়। গ্রহণের মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়। মানুষকে কোনো উন্নততর ও নৈতিকতরের দিকে আহ্বান করা যায় না।

দুই
আরও খারাপ ব্যাপার হচ্ছে, সামাজিক পরিস্থিতি খারাপ হলে ভালো মানুষদের শামুকের মতো গুটিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। মিথ্যা ও জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। সত্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে পারে না। গুটি কয়েক যাঁরা সত্য বলে বেঁচে থাকতে চান, তাঁরা ব্যাপক হাসি-ঠাট্টা ও আক্রমণের শিকার হন। আপনি অর্থনৈতিক জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন না। কারণ, শুয়াইব আলায়হিস সালামের কওম যেমন বলেছিল, আপনি আপনার নামাজ নিয়ে থাকেন, আমরা আমাদের অর্থ দিয়ে কি করি, সে দেখার দরকার কী?

তিন
আল্লাহ সব নবিকে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ব্যাপক সমর্থন দান করেননি। সামান্য কিছু অনুসারী নিয়ে বছরের পর বছর দাওয়াত দিয়ে গেছেন। দাওয়াতে মানুষ খুব বেশি সাড়া দেয়নি। যদি সেসব নবিদের কথা ভাবেন, তাহলে দেখবেন, সে সময়ের সামাজিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। তারা কোনো না কোনো ব্যাপক ফাসাদ ও রোগে আক্রান্ত ছিল। আসলে মানুষ যখন ফিতরাতের উপর থাকে, তখন দাওয়াত কবুলে দ্বিধা করে না। কোনো ফাসাদ ও মন্দ কাজে লেগে থাকলেই তার মধ্যে কসাওয়াতে কলবি সৃষ্টি হয়, মন কঠিন হয়ে যায়। এবং আল্লাহ যখন দেখেন, ব্যাপকভাবে দাওয়াত কবুল হচ্ছে না, তখন ব্যাপক আজাব পাঠান। কেননা কুদরত কোনো জাতির সম্মিলিত পাপকে ক্ষমা করেন না।

চার
ফলে, যারাই উন্নততর সমাজের কামনা করেন, তাদের প্রথম কাজ হচ্ছে, সমাজকে ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচানো। নয়তো কোনো পরিবর্তন আশা করা যায় না। বিশ্বাসগত পরিবর্তন আশা করা যায় না। ধরুন, যাঁরা সাবেক বামপন্থী, তাঁরা চিন্তাগতভাবে পুঁজিবাদের বিরোধী হলেও শেষ জীবনে তাদের অধিকাংশ পুঁজিবাদের পেটের ভেতরে বাস করেন। তাঁদের ছেলেমেয়েদের কথা নাই-বা বললাম। প্রচুর ইসলামপন্থীদের ছেলেমেয়েও দিন শেষে পুঁজিবাদের গানই গান। তাঁদের তো জ্ঞান কম ছিল না। বুঝ কম ছিল না। তবু, ফেতনাময় সমাজের মধ্যে বেড়ে ওঠায় শেষ রক্ষা হয়নি।

আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন!

লেখক : তরুণ চিন্তক ও সমাজ বিশ্লেষক

আগের সংবাদথার্টি ফাস্ট নাইট : বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?
পরবর্তি সংবাদ‘আরও ৫ বছর সময় পেলাম, বাকি কাজগুলো করতে পারবো’