থার্টি ফাস্ট নাইট : বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?

হামমাদ রাগিব

আজ ৩১ ডিসেম্বর। খ্রিষ্টীয় বছরের সর্বশেষ দিন। ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটার ঘর পেরোলেই শুরু হবে নতুন বছর। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে এই রাতটাকে থার্টি ফাস্ট নাইট হিসেবে নানা রকমের বেহায়াপনা ও নোংরা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়।

বিশ্বায়নের কল্যাণে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের ঢেউ আমাদের দেশেও আছড়ে পড়ে প্রতি বছর। ডিজে পার্টিসহ এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বিজাতীয় সব অনুষ্ঠানের। বাঙালি তরুণ-তরুণীরা মেতে ওঠে পশ্চিমা সংস্কৃতির বেহায়াপনায়। ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে আজ এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম দুজন ইসলামিক স্কলারের সঙ্গে।

ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন। চট্টগ্রামের ওসমান গনি কলেজের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট লেখক। তিনি বলেন, ‘থার্টি ফাস্ট নাইট আমাদের সংস্কৃতি না, এটা ওয়েস্টার্ন কালচার। খুবই নোংরা এবং বেহায়াপনাময় একটা কালচার। যা মুসলিম হিসেবে আমাদের কালচারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। কিছু কালচার আছে যেগুলো আমাদের ইসলামিক কালচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো পালনে কোনো বাধা নেই। কিন্তু এই যে থার্টি ফাস্ট নাইট, এটা ইসলামের নিষিদ্ধ কাজগুলো দিয়ে যেমন ভরপুর, তেম্নি ইসলামের বাইরের সভ্য কোনো কালচারের সঙ্গেও মানানসই নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কালচারটা আমাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। আমি প্রত্যেক মা-বাবা ও অভিভাবকদের বলব, তাঁরা যেন তাঁদের সন্তানদের এ রাতটিতে অন্তত ঘর থেকে বেরোতে না দেন। বেহায়াপনা ও নোংরা কাজের পাশাপাশি এ রাতে প্রচুর পরিমাণে মাদক সেবনও চলে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তাঁরা যেন এ রাতে একটু বাড়তি নজরদারি জোরদার করেন।’

দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সহসম্পাদক, তরুণ আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা আলী হাসান তৈয়বও তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, ‘থার্টি ফাস্ট নাইট আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে তো মানানসই না-ই, পাশাপাশি বাঙালি হিসেবে যে আমরা একটা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ লালন করি, তার সঙ্গেও এর সাংঘর্ষিকতা আছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের বাইরে বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে এ দেশের মানুষ অনেক উৎসবই পালন করে, প্রতিটা উৎসবের পেছনে একটা না একটা যৌক্তিক দিক আছে, কিন্তু থার্টি ফাস্ট নাইট এমন একটি উৎসব, যেটার সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতি কিংবা এ দেশের সংস্কৃতির কোনো যোগসূত্র নেই। এবং এর ইতিবাচক কোনো দিকও নেই। এটাকে কেন্দ্র করে যত রকমের আয়োজন করা হয়, সবকিছুতেই অশ্লীলতা এবং উগ্রতা বিদ্যমান। এর দ্বারা তরুণ-তরুণী তথা নারী-পুরুষ পরস্পরের মধ্যে যে একটা শ্রদ্ধাবোধ আছে, তাতে যথেষ্ট ঘাটতির সৃষ্টি হয়।

‘ডিজে পার্টিসহ থার্টি ফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত আয়োজন করা হয়, এতে আমাদের অনেক পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়ে। এবং এ সমস্ত অনুষ্ঠানে নেশাজাত দ্রব্য—মদ, ফেনসিডিল ইত্যাদির ছড়াছড়ি থাকে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রশাসন খুবই সোচ্চার, আমি আশা করব, মাদকসেবনের এই সব অনুষ্ঠান প্রশাসন কঠোর হাতে দমন করবেন। পাশাপাশি সামাজিকভাবেও আমরা যার যার অবস্থান থেকে থার্টি ফাস্ট নাইটের ব্যাপারে সবাইকে নিরুৎসাহিত করব।

‘এ তো গেল একজন সাধারণ বাঙালি হিসেবে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের কদর্যতার দিক। এ ব্যাপারে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ যদি বলি, যারা থার্টি ফাস্ট নাইটকে উৎসাহিত করে কথাবার্তা বলেন, কুরআনে তাদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমের এক জায়গায় ইরশাদ করেছেন, যার ভাবার্থ এমন— যারা চায় যে দুনিয়াতে অশ্লীলতার বিস্তার ঘটুক, তাদের জন্য দুনিয়াতে কঠিন শাস্তি রয়েছে, আখেরাতেও অপেক্ষা করছে লজ্জাজনক পরিস্থিতি।

‘অতএব যারা ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো কারণে এ রাতটি উদযাপনের ব্যাপারে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করেন, তাদেরকে আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাব, তাঁরা যেন আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করেন এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ভালো ও সুস্থ সংস্কৃতি নিয়ে চলতে সহযোগিতা করেন।’

আগের সংবাদঐক্যফ্রন্টকে রায় মেনে নেয়ার আহ্বান জানাল আ’লীগ
পরবর্তি সংবাদফাসাদের উৎসব ও সামাজিক পরিবর্তন