একুশে বইমেলায় ইসলামি প্রকাশনীগুলো যেতে পারে না কেন?

হামমাদ রাগিব 

ফেব্রুয়ারি অত্যাসন্ন। ফেব্রুয়ারি মানেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বাংলা একাডেমি-প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইপ্রেমীদের ভিড়। লেখক-পাঠকের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির উষ্ণ লেনাদেনা।

এবারের একুশে বইমেলায় বেশকিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশ বিস্তারিত করা হবে বিজয় স্তম্ভ, গ্লাস টাওয়ারসহ শিখা চিরন্তন অবধি। প্রথমবারের মতো আঁকা হচ্ছে স্টল ও অবকাঠামোগত নকশাও। কিন্তু স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। বরাবরের মতো নামজাদা ইসলামি প্রকাশনীগুলো এ বছরও কোনো স্টল পায়নি। বেশ কয়েকটি প্রকাশনী প্রতি বছর নিয়মিত আবেদন করে এলেও অজানা কারণে তাদেরকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয় না।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামি ঘরানার একটি প্রকাশনী জানিয়েছে, তারা বাংলা একাডেমির বেঁধে দেওয়া সব শর্ত পূরণ করে এ বছর আবেদন জানিয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হয়নি সে ব্যাপারেও স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, তাদের প্রকাশিত ইসলামি ভাবধারার কয়েকটি বইয়ের ব্যাপারে সন্দেহপোষণ করে মেলা-কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুলিশে ইনফর্ম করা হয়েছে। প্রকাশনী-কর্তৃপক্ষের ধারণা, এ কারণেই হয়তো তাদেরকে মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

মাকতাবাতুল ইসলামের কর্ণধার মাওলানা মঈনুদ্দীন গালিবের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছিল ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের। তিনি জানিয়েছেন, স্টল পাওয়া যাবে না নিশ্চিত জেনে মাকতাবাতুল ইসলাম বইমেলার জন্য কখনও আবেদন করেনি। কারণ, মাকতাবাতুল আশরাফ, মাকতাবাতুল আযহারসহ প্রথিতযশা অনেক ইসলামি প্রকাশনীই প্রতি বছর আবেদন করে আসছে। কিন্তু তাদেরকে স্টল দেওয়া হচ্ছে না। তবে সুযোগ থাকলে মাকতাবাতুল ইসলাম প্রতি বছরই মেলায় অংশগ্রহণ করত বলে জানিয়েছেন মঈনুদ্দীন গালিব।

অবশ্যি নির্দিষ্ট দু-একটা ইসলামি প্রকাশনী প্রতি বছরই সুযোগ পায় বইমেলায় যাওয়ার। কিন্তু সংখ্যায় তা নিতান্তই অপ্রতুল। তাদের সঙ্গে ইসলামি ঘরানার অভিজাত প্রকাশনীগুলোর ব্যাপক আগ্রহ মেলায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে। এ আগ্রহ থেকে প্রতি বছর বেশ কিছু প্রকাশনী আবেদনও করে বাংলা একাডেমিতে, কিন্তু অজানা কারণে তাদেরকে কোনো স্টল দেওয়া হয় না। তাদের অনেকের ধারণা ইসলাম-সংশ্লিষ্ট বই প্রকাশের কারণেই তাদেরকে বঞ্চিত করে বাংলা একাডেমি।

অথচ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে বইমেলায় সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ইসলামি ঘরানার পাঠকের অংশগ্রহণ থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সে পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দাড়ি-টুপিধারী ও মাদরাসা-পড়ুয়াদের আনাগোনা মেলা চলাকালীন পুরো মাসজুড়েই চোখে পড়ার মতো থাকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু এই শ্রেণির পাঠকদের চাহিদা মেটানোর মতো কোনো প্রকাশনী মেলায় খুব একটা দেখা যায় না।

মাওলানা গালিব বলেন, একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ ইসলামি প্রকাশনীগুলোর ন্যায্য অধিকার। এ অধিকার থেকে প্রকাশনীগুলোকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ তাদের অংশগ্রহণ মেলার সর্বজনীনতাকেই বৃদ্ধি করত।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রকাশনীগুলোকে বইমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে একদিকে যেমন প্রকাশনীগুলো নিজেদের ন্যায্য অধিকার বুঝে পাবে, অপরদিকে মেলায় আসা ইসলামপ্রিয় পাঠকদের চাহিদা মেটাতেও সক্ষম হবে। তাই আলাদা প্যাভিলিয়ন—যেখানে কেবল ইসলামি প্রকাশনীগুলোর স্টল থাকবে—তৈরি করে হলেও ইসলামি প্রকাশনীগুলোকে যেন মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়—বাংলা একাডেমির কাছে এ আহ্বান জানান মাওলানা মঈনুদ্দীন গালিব।

আগের সংবাদরোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরই অবস্থান এখন বাংলাদেশে
পরবর্তি সংবাদদেওবন্দে তাবলিগের কার্যক্রম কেন বন্ধ?