
রাগিব রব্বানি
দেশে ভয়াবহ আকারে ধর্ষণের মতো বর্বর ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষিতা হচ্ছেন নারীরা। এমনকি অবলা শিশুরাও বাঁচতে পারছে না বর্বরতার এই করাল গ্রাস থেকে।
আরও পড়ুন : পাবলিক প্লেসে নারীর নিরাপত্তাহীনতা, বিস্তারিত পরিসংখ্যান
সম্প্রতি ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ হলেও অন্যান্য ধর্ষণ নিয়ে খুব একটা প্রতিবাদ হচ্ছে না।
সুবর্ণচরের ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকগুলো নারী ও শিশুধর্ষণের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
১৫ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী বালিকাকে ধর্ষণ, বাগেরহাটের শরণখোলায় ১০ বছরের বালিকাকে কলেজছাত্রের ধর্ষণচেষ্টা, তার আগে টাঙ্গাইলের সখিপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ২০ দিন ধরে আটকে রেখে উপুর্যুপুরি ধর্ষণ, সম্প্রতি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এলাকায় পানবরজের ভেতর এক মাদরাসা-ছাত্রীকে স্থানীয় দুই যুবকের গণধর্ষণসহ আরও কুঁড়িটারও বেশি ধর্ষণের খবর গণমাধ্যমে এসেছে নতুন বছরের মাত্র ২০ দিন পার হতে না হতেই।
কিন্তু কেন এই বর্বরতার সয়লাব? সমাজতাত্ত্বিকরা এর নানারকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, দেশে সুস্থ রাজনীতির চর্চার সুযোগ কমে যাওয়ায় এক রকম হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মানুষ ভবিষ্যতের কোনো রকম সম্ভাবনা দেখছে না। সমাজ ও রাষ্ট্রে অংশগ্রহণের কোনো প্রকল্প তাকে টানছে না। পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে। দেশে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ কমে এসেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছে না। ফলে একরকম উদ্দামতা সৃষ্টি হচ্ছে। সেখান থেকে যৌন-জুলুমের পরিধি ও পরিমাণ বাড়ছে।
নৈতিক ও সাংস্কৃতিক সঙ্কটও এই ধারার তীব্রতা বাড়াচ্ছে। ধর্মীয় ও পারাবারিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গড়ে উঠছে না। বিবাহ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। অবৈধ বিনোদনে বাজার ছেয়ে গেছে। ফলে একটা অবদমিত চাহিদার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ যখন দেখছে, তার কোনো ভবিষ্যৎ নাই, তার কোনো স্বপ্ন ও প্রকল্প নাই, কারো কাছে তার কোনো ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি নাই, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বেপরোয়া মনোভাব থেকেই সে যৌন-জুলুম ও ধর্ষণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসার প্রধান মুফতি হাফেজ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, ধর্ষণের এই ভয়াবহ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ মানুষের ধর্মহীনতা। ধর্মহীনতার কারণেই সমাজে নৈতিক স্খলন ঘটেছে। পাশাপাশি সহশিক্ষাব্যবস্থাকেও দায়ী করেন তিনি। তাঁর মতে, সহশিক্ষার ফলে জীবন ও যৌবন সম্পর্কে নতুন বোধোদয় ঘটা তরুণ শিক্ষার্থীরা সহজেই মেয়েদের সংস্পর্শ পাচ্ছে এবং এখান থেকেই জাগ্রত হচ্ছে জৈবিক চাহিদার হিংস্ররূপ। যার বহিঃপ্রকাশ আপসে না হলে ধর্ষণের মাধ্যমে সে ঘটায়।
তাছাড়া এই ভয়াল অপকর্মের বিস্তারকে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যত-বাণীর প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন মুফতি আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুলের হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শেষ জামানায় একটা সময় জিনা-ব্যভিচারের সয়লাব ঘটবে পৃথিবীতে। এটা সেই সময়।
উপযুক্ত ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব করাকেও দায়ী করেন মুফতি আহমাদুল্লাহ। ছেলে-মেয়েদের বিয়েকে সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার দ্বারা কঠিন করে ফেলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুফতি আহমাদুল্লাহ বলেন, এই ভয়াবহ সমস্যারোধের মৌলিক সমাধান একটাই। মানুষকে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি যত্নশীল হওয়া। এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলা। পাশাপাশি সহশিক্ষা ব্যবস্থাকে বন্ধ করার ব্যাপারেও জোর দাবি জানান তিনি।
