দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি, ৮৫ ভাগই মাদকাসক্ত

ফাতেহ ডেস্ক

গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশনের পাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৪ শিশু। ওদের বয়স ৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। ওদের এক হাতে ভাঙারির বস্তা, অন্য হাতে পলিথিন। ওরা কী যেন ভাগাভাগি করতে ব্যস্ত।

এ শিশুদের মাছে চারজনের একজন সর্দারের ভূমিকা নিয়ে একেকজনের পলিথিনে ঢেলে দিচ্ছে সেই উপকরণ। কাছে গিয়ে নিশ্চিত হলাম, এরা জুতার আঠা ড্যান্ডি ভাগাভাগি করছে শুঁকার জন্য।

জানা গেল এদের নাম আলিফ, মানিক, রাসেল ও কালু। এ চারজনই রাতে যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমোয়। দিনে এরা ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বোতল, প্লাস্টিকের টুকরো, ভাঙারি সংগ্রহ ও বিক্রি করে।

ক্ষুধা মেটাতে ড্যান্ডিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে ওই চার পথশিশুই। ঢাকায় আলিফ, কালুর মতো অনেক পথশিশু রয়েছে। তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান নেই সরকারের হাতে।

পথশিশুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এদের নেই নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা। খোলা আকাশ, পার্ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন, ফেরিঘাট-লঞ্চ টার্মিনাল কিংবা বাস স্টেশনেই এদের থাকার জায়গা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ আদমশুমারিতে ভাসমান মানুষ সম্পর্কে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, দেশে চার লাখের মতো পথশিশু রয়েছে। যার অর্ধেকই অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকায়।

অন্যদিকে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ঢাকার হিসাব অবশ্য তাদের কাছে নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ঢাকাতেই ছয় লাখ পথশিশু রয়েছে।

সারা দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। পথশিশুরা ক্ষুধার জ্বালা, একাকিত্বের কষ্ট বা সঙ্গ দোষে নানা ধরনের মাদক নিচ্ছে। এমন এক মাদক ড্যান্ডি। ড্যান্ডি সেবনের বিষয়ে জুরাইনবস্তির পথশিশু মৃদুল বলে, ‘ক্ষুধা লাগে। ড্যান্ডি খেলে ঝিমুনি আসে, ঘুম আসে।

একাধিক বেসরকারি শিশু সেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পথশিশুদের উন্নয়নে তারা নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। তারা জানায়, অধিকাংশ শিশুই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদের কাছে আসে।

বেশিরভাগ সময় তারাই যায় শিশুদের দোরগোড়ায়। ছেলেদের তুলনায় মেয়ে শিশুরা বেশি ভিকটিম। তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তারেক হাসান নামে একজন সেবাকর্মী বলেন, এসব শিশুর শিক্ষার অধিকার নেই।

স্বাভাবিক জীবনযাপনে মেলামেশার অধিকার নেই। ফলে এরা অপরাধ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে চায় না। ধ্বংসাত্মক কাজে আগ্রহী ও নেতিবাচক আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

মানবাধিকার কর্মী রোকসানা কবির বলেন, পথশিশুদের পুনর্বাসন এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনেক সংস্থা ও সংগঠন রয়েছে। কিন্তু কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ ও ফলাফল চোখে পড়ে না।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিদিনই এ ধরনের ছিন্নমূল শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলছে, যাথা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

আগের সংবাদধর্ষণের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশীর ১০ বছরের দণ্ড
পরবর্তি সংবাদভারতে এবার গরুর জন্য শ্মশান!