সুদানে আবার বিদ্রোহ : কী হয়েছিলো, কী হতে পারে

তুহিন খান

প্রেসিডেন্ট ওমর আল বাশিরের পদত্যাগের দাবিতে সুদানে চলছে গণবিদ্রোহ। অর্থনৈতিক নানারকম অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ এখন প্রেসিডেন্টবিরোধী বিদ্রোহে রুপ নিয়েছে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই বিদ্রোহে প্রতিরক্ষাবাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ এরও বেশি লোক নিহত হলেও, এখন পর্যন্ত সরকার বা বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে কোনরকম ছাড় দেওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অব্যাহত বিদ্রোহ সত্ত্বেও, এখন পর্যন্ত সরকার রাজধানীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সবধরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিদ্রোহী জনতার উপর সরাসরি হামলা করছে।

অন্যদিকে, শুরুর দিকের বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে আন্দোলন ক্রমেই সঙ্ঘবদ্ধ রুপ ধারণ করছে। বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরে গঠিত হয়েছে ‘ট্রেড ইউনিয়ন সিন্ডিকেট’, যেখানে রয়েছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাইন্টিস্ট, প্রফেসর, সাংবাদিকসহ দেশের প্রায় সকল পেশার মানুষ। গত ২৫ ডিসেম্বর ট্রেড ইউনিয়ন সিন্ডিকেট প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য রাজধানী খারতুম অভিমুখে এক লং মার্চের আয়োজন করে, কিন্তু সরকারী বাহিনী সেই মার্চ ভেঙে দেয়। এর আগেও সুদানে বিদ্রোহ হয়েছে, তবে এই বিদ্রোহের ধরণ অনেকটাই ভিন্ন। পূর্বেকার বিদ্রোহগুলি রাজধানী থেকে ছড়িয়ে পড়ত গোটা দেশে, কিন্তু এই বিদ্রোহ প্রথমে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় এবং একদিনেরও কম সময়ে রাজধানী খারতুমেও ছড়িয়ে পড়ে।

কেন এই বিদ্রোহ?
সুদানজুড়ে অর্থনৈতিক নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করেই বিদ্রোহের শুরু। বিশেষত, সম্প্রতি সরকারকর্তৃক রুটির দাম বাড়ানোকে কেন্দ্র করে, রাজধানী খারতুম থেকে প্রায় ৩১০ কি. মি. দূরে, সুদানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ে সিটি আতবারার শ্রমজীবীরা এই আন্দোলনের সূচনা করে। এর আগে, ১৯৮৫ সালে এরকমই এক বিদ্রোহে পতন ঘটেছিলো গাফার নিমেইরি (১৯৬৯-১৯৮৫) সরকারের; বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্বসাধন এবং রুটি ও জ্বালানির উপর সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ওই বিদ্রোহ শুরু হয়েছিলো।

চলমান সমস্যার শুরু ২০১৭ এর শেষদিকে। সেসময় ভাইস প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল বাকরি হাসান সালেহের নেতৃত্বাধীন, তথাকথিত ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন গভমেন্ট’ তার প্রথম বাজেট ঘোষণা করে। এই সরকারের অর্থমন্ত্রীও একজন সামরিক বাহিনীর লোক, যার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা নাই। বাজেট ঘোষণার পরপরই, দ্রুতগতিতে সুদানে মুদ্রার মূল্যহ্রাস শুরু হয়। ২০১৭ সালের শুরুতে সুদানের উপরে আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধের প্রায় অধিকাংশই তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, যা সুদানের সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রুটি আর জ্বালানির জন্য লম্বা লাইনের পাশাপাশি, লোকেরা ব্যাংক থেকে তাদের টাকাও তুলে নেওয়া শুরু করে। গতবছর ঈদুল আযহার সময় এই অবস্থা চরমে পৌঁছায়, যখন অনেকেই ব্যাংক থেকে ডিপোজিট তুলতে ব্যর্থ হয়, অনেকের বেতন আটকে যায়। গোটা দেশে তৈরি হয় এক ভয়াবহ অচলাবস্থা। কিন্তু সরকারের কোন ভাবান্তর ঘটেনি। বরং, তারা সংবিধান সংশোধন করে ২০২০ সাল থেকে আরেক দফা প্রেসিডেন্ট বাশিরের ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করে।

২০১৪ এর শেষদিকে প্রেসিডেন্ট আল-বাশির যে জাতীয় সংলাপের ঘোষনা দিয়েছিলেন, তা বিশেষ কাজে আসেনি। এ নিয়ে সারাদেশেই ছিলো এক ধরণের রাজনৈতিক হতাশা। সংলাপের বিভিন্ন বিষয়ে সরকার কোনরকম বাস্তবসম্মত সমঝোতায় সাড়া দেয়নি; এমনকি, নতুন সংবিধান তৈরি এবং সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সবাই একমত হওয়ার আগে ২০১৫-এর নির্বাচন না দেওয়ার যে দাবি বিরোধীরা তুলেছিলো, তাতেও সরকার সাড়া দেয়নি। সেই সংলাপে অংশ নেওয়া অনেকেই শেষমেশ গ্রেফতার হয়েছেন, যেমন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদিক আল মাহদি।

এই পরিস্থিতিতে, সারাদেশে গণবিস্ফোরণ ঘটে। প্রেসিডেন্ট আল-বাশির ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, প্রধানমন্ত্রী পালটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নতুন এই সরকারে প্রায় আগের সব মন্ত্রীরাই থেকে যান এবং এই সরকারও মুদ্রাস্ফীতি রোধ কিংবা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। বরং, নতুন সরকার এসে রুটি আর জ্বালানির দাম বাড়িয়ে বিদ্রোহের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।

সরকারের শক্তি
অব্যাহত এই বিদ্রোহ, সুদানে এক নতুন রাজনৈতিক অবস্থার জন্ম দিয়েছে। ১৯৯০-এর পরে, এই প্রথমবার, সুদানের বিরোধীদল এই সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার ভরসা পাচ্ছে। সরকারও প্রায় একা হয়ে পড়েছে; বেশকিছু শহরে আর্মি বিদ্রোহীদের উপর গুলি চালাতে অস্বীকার করেছে, এবং জানজাবিদ মিলিশিয়া (২০০৩ সাল থেকে দারফুরের বিদ্রোহীদের দমনে সরকার এদের সহায়তা নিয়ে আসছে) ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এই বিদ্রোহ দমনে কোন হস্তক্ষেপ করবে না। আবার বর্তমান প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বলয় এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলো একনায়কতান্ত্রিক হওয়ায়, সাপোর্টারদের হামদর্দি কমার সাথে সাথে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সমর্থনও তারা হারিয়েছে।

অবশ্য তারপরেও, এই সরকারকে একদম একা বলা যায় না। প্রেসিডেন্ট বাশিরের ক্ষমতার মূল শক্তি সেনাবাহিনীর মধ্যে কোন বিদ্রোহভাব নাই। সম্ভবত এর একটা কারণ এই যে, বিদ্রোহীদের কেউ কেউ ইসলামপন্থীদের মূলোৎপাটন এবং শাস্তির কথা বলছে, যদিও ইসলামপন্থীরা কে কোন দলে সেটা তারা জানেই না। এছাড়াও, তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষত আর্মিকে, বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্তদের থেকে ‘শুদ্ধ করা’র হুমকি দিচ্ছে। কেউ কেউ তাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করছে।

সামরিক পোশাকে অনেক সিভিলিয়ানকেও বিদ্রোহীদের উপর চড়াও হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এরা সরকার সমর্থক সুদানের কথিত ‘পিপলস পুলিশ’র অংশ, যারা সৌদি আরবের ‘মোরালিটি পুলিশ’র মতই কাজ করে। আবার, সরকারের অনমনীয় মনোভাবও অব্যাহত আছে। সরকার গ্রেফতার, ঘরে ঘরে তল্লাশী এবং মানবঢাল বানানোর মাধ্যমে শক্ত হাতে এই বিদ্রোহ দমন করতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সচেষ্ট।

বিশৃঙ্খলার জুজু
বিদ্রোহের তীব্রতা সত্ত্বেও, সরকার বা বিরোধী—কোন পক্ষই কাউকে ছাড় দিতে রাজি না। যদিও বিদ্রোহীরা বর্তমান সরকারের বৈধতাকে অনেকটাই খেলো করে দিয়েছে এবং সরকারের জনপ্রিয়তায়ও ধস নামিয়েছে; কিন্তু কোন সর্বসম্মত বিকল্প ছাড়াই সরকারের পতন শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার ভয় তৈরি করেছে, আর এটাই বিদ্রোহীদের সফলতার বড় প্রতিবন্ধক। সরকারও বর্তমানে, ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়ার সাথে তুলনা করে, বিশৃঙ্খলার ভয় দেখানো এক নতুন বয়ান তৈরি করেছে। কিন্তু সুদানে সেরকম পরিস্থিতি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, সুদানে তেমন কোন আঞ্চলিক শক্তি নাই যারা গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে আগ্রহী, তাছাড়া সুদানে এমন অনেক পলিটিকাল শক্তিও আছে যারা সংলাপে আগ্রহী। সুদান বেশ কয়েকবার একটা সফল নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রতিবারই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ব্যাহত হয়েছে। এবং সুদানের গণঅভ্যুত্থানগুলিও সেনাশাসনের মধ্যেই ঘটেছে।
২০১৩-র সেপ্টেম্বরে সংঘটিত এক বিদ্রোহ দমনেও সরকার এই ‘বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গার ভয় দেখানো’র পলিসি গ্রহণ করেছিলো। এবারও সরকার সেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যদিও এবার এই পলিসির সাফল্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

সরকারের পেছনে ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক মদদ
আশ্চর্যের ব্যাপার, এই সরকার প্রায় সব বিবাদরত আঞ্চলিক ও অন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে নিরঙ্কুশ সমর্থন পাচ্ছে। কোন দেশই এই বিদ্রোহে তেমন কোন সমর্থন দিতে আগ্রহী না। সৌদি ও আমিরাত এই সরকারের পতন হলে ইয়েমেন যুদ্ধে তাদের মিত্র হারাবে, এই ভয়ে ভীত। ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে কয়টি দেশ স্থলভাগ দিয়ে সৈন্য পাঠাতে সম্মত হয়েছিলো, তাদের মধ্যে সুদান অন্যতম। প্রতিবৈপ্লবিক রাষ্ট্রগুলো, যেমন মিশরের ভয় হলো, এই বিপ্লব সফল হলে আবার নতুন করে আরব বসন্তের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে তুরস্কেরও পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছে বাশির সরকার; গত কয়েক বছরে আঙ্কারার সাথে যে শক্ত মৈত্রী গড়ে তুলেছে তারা, সেটাই এখন কাজে দিচ্ছে। বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরে এ মাসের কাতার সফরই ছিলো প্রেসিডেন্ট বাশিরের প্রথম বিদেশ সফর। কাতারের আমিরও বাশিরের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। কারণ, অবশ্যই কাতার এমন কোন সরকারের পতন চাইবে না, যারা প্রচণ্ড সৌদি চাপ সত্ত্বেও কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধে অংশ নেয় নাই। সম্ভবত, রাশিয়া-ইরান অক্ষও সুদানের এই সরকারের সাথেই আছে, বিশেষত বাশিরের সাম্প্রতিক দামেশক সফরের পরে এই সম্ভাবনাই আপাতত জোরালো। কারণ, বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরে সিরিয়ায় সফর করা তিনিই প্রথম আরব নেতা। তার এই সফর সিরিয়ার বর্তমান সরকারের জন্য এক ধরণের স্বস্তি নিয়ে এসেছে; ‘সিরিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক’—এই বার্তা পৃথিবীকে দেওয়ার জন্য এ ধরণের সফর এখন সিরিয়ার সরকারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

চীনও এই সরকারকে জোরালোভাবেই সমর্থন দিচ্ছে। অবশ্য, ১৯৮৯ সালে এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীনের সমর্থন তারা পেয়ে আসছে, এমনকি আমেরিকা ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে একঘরে করে রাখার নীতির বিপরীতেই চীন তাদের সমর্থন করে গেছে। চীনের এই সমর্থনের ফলেই মূলত, ১৯৯১ সালে ইথিওপিয়া ও চাদের সরকার উৎখাতকারী সশস্ত্র বিদ্রোহে সুদান সমর্থন দিতে পেরেছিলো; অথচ ঐ সময় উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকাবিরোধী অবস্থান এবং সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে সুদান প্রায় একঘরে। মালয়েশিয়ার সরকারের সাথে মিলে, ১৯৯০ এর শেষদিকে চীন সরকার সুদানের তেল নিষ্কাশন, পরিশোধন ও বাজারজাতকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এই সহায়তার ফলেই বর্তমান সরকার অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং নিজেদের ক্ষমতাকে আরো সংহত করার সুযোগ পায়। অন্যদিকে আমেরিকাও এই সময়ে এ অঞ্চলে কোন ধরণের বিদ্রোহ বা সরকার বদলের পক্ষপাতী না। বর্তমান সরকারের সাথে আমেরিকার সম্পর্কও এখন বেশ ভালো, বিশেষত সবচে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ইস্যু, যার জন্য আমেরিকার সাথে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছিলো, সেগুলো সমাধান হয়ে যাওয়ায় আগের বৈরী সম্পর্ক আর নেই। সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ থেকে সুদান রেহাই পেয়েছে, আর দক্ষিণ সুদানে বিদ্রোহের প্রশ্নও ২০১১ সালে তাদের স্বাধীনতার মাধ্যমে সমাধা হয়েছে। ফলে ২০১৭ নাগাদ, আমেরিকা সুদানের উপর আরোপিত প্রায় সব অবরোধই তুলে নিয়েছে।

শেষকথা
দেশি-বিদেশি শক্তিগুলো বাশির সরকারকে সমর্থন দিলেও, চলমান বিদ্রোহে্র সময় সরকারকে কোন অর্থনৈতিক সমর্থন তারা দিচ্ছে না, বা সরাসরি হস্তক্ষেপও করছে না। ফলে, সরকারে আভ্যন্তরীণ ভারসাম্যই এই সমস্যা সমাধানে মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। হোয়াইট হাউসের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলেও সাবেক গাফার নিমেইরি সরকার টেকে নাই। আর্মির উপরও অনেককিছুই নির্ভর করছে; কোন সমঝোতায় পৌঁছে যদি তারা বিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়েই একটা জাতীয় ঐক্যমূলক সরকার গঠন করে, এবং এই সময়কালে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা সংলাপের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রস্তুত করে কার্যকরী ও গণতান্ত্রিক একটি নির্বাচনের আয়োজন করতে পারে, তাহলেই কেবল এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, দিল্লি বহুত দূর।

লেখক : কবি ও ক্রিটিক

আগের সংবাদ‘জেএমবিকে পুনর্গঠনের চেষ্টায় ছিলো শরিফুল’
পরবর্তি সংবাদধর্মপ্রতিমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাদ সাহেব আসছেন?