যুক্তরাষ্ট্রের অবর্তমানে তালেবানরা যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়

বিশেষ প্রতিবেদক

তালেবানরা বুধবার বলেছে যে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ সরকার এককভাবে পরিচালনার কথা ভাবছে না তারা। বরং তারা আফগান প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সহাবস্থানের কথা বিবেচনা করছে। এ যাবত তালেবানদের পক্ষ থেকে এটিই সবচেয়ে ইতিবাচক বিবৃতি।

দীর্ঘদিনের আফগান যুদ্ধের ইতি টানার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টা যখন জোরদার হয়েছে, এমন সময়েই এই বিবৃতি দিলো তালেবানরা। মার্কিন দূত জালমাই খলিলজাদ এ সপ্তাহে জানিয়েছেন যে, শান্তি চুক্তির ‘ফ্রেমওয়ার্কের’ ব্যাপারে একমত হয়েছে তালেবান।

এ মুহূর্তে আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে তালেবানরা।

কাতারে রাজনৈতিক অফিস রয়েছে তালেবানদের। সেখানে কাতারভিত্তিক মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেছেন, ‘মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান থেকে সরে গেলে তালেবানরা আর দশজন আফগানের মতোই বাস করতে চায়, একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ভাই ভাই হিসেবে বাস করতে চায় তারা।’ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের কাছে দেয়া এক্সক্লুসিভ অডিও বার্তায় এই বিবৃতি দেন শাহীন।

শাহীন বলেন, `দখলদারিত্ব শেষ হলে, আফগানদের উচিত হবে অতীত ভুলে একে অন্যের সাথে ভাই ভাই হিসেবে বাস করা। সেনা প্রত্যাহারের পর একতরফাভাবে ক্ষমতায় থাকার কথা ভাবছি না আমরা।’

তিনি আরও বলেন, `আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আফগানের কথা বিশ্বাস করি, যেখানে সমস্ত আফগান নিজ নিজ অস্তিত্ব খুঁজে পাবে।’

তিনি আরও বলেন যে, তালেবানরা একটা পুনর্গঠিত পুলিশ বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ গড়ার কথা ভাবছে যদিও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাননি তিনি। আফগানিস্তানের স্থানীয় পুলিশ বাহিনী দুর্নীতির জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়ে আসছে এবং স্থানীয় জনগণকে তারা হয়রানি করে থাকে।

দোহাতে ২৫ ফেব্রুয়ারি খলিলজাদের সাথে আবারও আলোচনা হবে বলেও জানান শাহীন।

কাতারে গত সপ্তাহে তালেবানদের সাথে ছয় দিন ধরে আলোচনা করেছেন খলিলজাদ। তিনি কাবুলে সোমবার বলেন যে, এখনও অনেক কিছু করা বাকি, তবে তালেবানদের সাথে আলোচনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি আফগানদের আশ্বস্ত করেছেন যে, কাবুল সরকারের অগোচরে এবং তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো চুক্তি হবে না।

গত সেপ্টেম্বরে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে খলিলজাদ আফগানিস্তানে সমঝোতার জন্য তৎপরতা বাড়িয়েছেন, যে প্রক্রিয়ায় এক পর্যায়ে দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

আগের সংবাদ‘সব জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে’
পরবর্তি সংবাদ২৭ বছরের অধ্যাপনা-জীবন থেকে অবসর নিলেন ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন