চীনের গোপন কারাগারে যেভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন নিরপরাধ উইঘুর মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীন সরকারের বিশেষায়িত ভয়ংকর ও গোপন ক্যাম্প থেকে মুক্তি পেয়ে তুরস্কে আশ্রয় নেয়া উইঘুর মুসলিম শরণার্থীরা জানিয়েছেন, ওই ক্যাম্পে কীভাবে বেঁচে আছে তাদের সম্প্রদায়। তারা অবর্ণনীয় ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। খবর ইয়ানি শাফাকের।

তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জিজেটটিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা বলছেন, চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে তারা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারা সেখানে চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে মধ্যযুগীয় অত্যাচার সহ্য করেছেন।

সেখান থেকে বেঁচে আসা একজন বলেছেন, তার চোখের সামনে দুই ভাই ও পাঁচ বন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে।

দুই সন্তানের জনক আবদুল রহমান বলেন, ২০১৭ সালে তার দুই সন্তানকে খেলার মাঠ থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। শুনেছি একজনকে মারা হয়েছিল আর একজন হাসপাতালে। কিন্তু সে আসলেই এখন কোথায়, আমি জানি না।

পশ্চিম তুর্কিতে থাকা উইঘুর সংখ্যালঘুর লোকেরা জানান, চীনের জিনজিয়াং উইঘুর মুসলিমদের স্বশাসিত অঞ্চল। এতে অসংখ্য জাতিগত সংখ্যালঘু রয়েছে।

তারা বিশ্বাস করেন যে উইঘুররা এই অঞ্চলে বাস করে এবং এটি চীন হিসেবে নয় বরং মধ্য এশিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত।

তারা বলেন, তাদের ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপ রোধ করার জন্য নৃশংস দমনমূলক নীতি চালাচ্ছে চীন।

চীনের জাতিগত উইঘুর মুসলমানদের বেশির ভাগ সেদেশের শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাস করেন। প্রদেশের শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ জনগোষ্ঠী উইঘুর সম্প্রদায়ের। শিনজিয়াংয়ের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ব্যাপক হারে আটক করা হচ্ছে বলে গত কয়েক মাস ধরে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতিসংঘের ওই কমিটির কাছে নানা তথ্যচিত্র তুলে ধরে দাবি করেছে, চীনা মুসলমানদেরকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

উইঘুর মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস বলেছে, বন্দিদেরকে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেখানে তাদেরকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বন্দিদেরকে ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না এবং ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়।

আগের সংবাদদেশে ১০ লাখেরও বেশি পথশিশু, কেমন আছে তারা?
পরবর্তি সংবাদম্যাসেঞ্জারে শিক্ষিকা-ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি, ১৭ শিক্ষার্থী বহিষ্কার