
মুসান্না মেহবুব
পঞ্চগড়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কুফরি ফেরকা কাদিয়ানিদের আহুত তথাকথিত জাতীয় ইজতেমা বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সঙ্গে গত রাতে কাদিয়ানি ও প্রশাসনের পৃথক পৃথক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলিম। তন্মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন চারজন।
সংঘর্ষে এক মুসলিম নারীকে শহিদ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রথম দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে বিক্ষুব্ধ মুসলিম জনতার। তারপর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নদী পার হয়ে কাদিয়ানিদের আস্তানা আহমদনগর যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় অনেকেই গুরুতর আহত হন।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের অন্য একটি অংশ নদী পার হতে সক্ষম হয় এবং আহমদনগরে অবস্থিত কাদিয়ানি প্যান্ডেল অভিমুখে রওনা হয়। কিন্তু কাদিয়ানিদের লাঠিয়াল বাহিনী তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করে পথিমধ্যে। তারা গরমপানি, লাঠি, খঞ্জর ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিক্ষুব্ধ মুসলিম জনতার ওপর। গুরুতর আহত করা হয় তাদের অনেককে। এ সময় প্যান্ডেলসহ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় বারোটা অবধি চলে রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষ।
সপ্তাহ দুয়েকের টানা আন্দোলনে কাদিয়ানিদের এ আয়োজন বন্ধের ব্যাপারে প্রশাসন আশাব্যঞ্জক সাড়া দেয়নি। অবশেষে গতরাতের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর তাদের টনক নড়েছে। প্রশাসন কাদিয়ানিদের ইজতেমা স্থগিত করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে। রাত বারোটার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভার কেন্দ্রীয় মসজিদের মাইক থেকে প্রশাসনের দেওয়া এ ঘোষণা ধ্বনিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
