
মুসান্না মেহবুব
বিশ্বখ্যাত দাঈ ও তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা তারিক জামিলকে বেশ কয়েক বছর ধরে তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমায় বয়ানের মিম্বরে দেখা যায় না। এর কারণ হিসেবে তাবলিগের উসুলি কিছু কায়দা-কানুনের দোহাই দিলেও সাদ সাহেবের সঙ্গে যখন জামাতটির বিরোধ স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন কারোরই বুঝতে বাকি থাকে না যে, মূলত মাওলানা সাদ প্রভাবিত নিজামুদ্দিন মারকাজের অনিচ্ছার কারণেই তারিক জামিল ইজতেমায় বয়ান করতে পারেন না।
এবারের ইজতেমার প্রথমার্ধ নিজামুদ্দিনের প্রভাব ও বলয় থেকে মুক্ত থাকায় মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের ভক্তদের বিশ্বাস ছিল এবার নিশ্চয় তিনি বয়ান করবেন। সকলেই তাঁর ইনতেজারে দিন গোজরান করছিলেন। ইজতেমায় তিনি আসছেন কি-না, এ সংবাদ জানার জন্যও তাঁরা মুখিয়ে ছিলেন।
শুরাপন্থী তাবলিগিদের ঊর্ধ্বতন একাধিক সূত্রের সঙ্গে গত কয়েকদিনে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছিল বিষয়টি নিশ্চিত হতে। সূত্রগুলো জানিয়েছিল, তারিক জামিলসহ শুরাপন্থী অন্যান্য মুরব্বি পর্যায়ের দাঈকে ইজতেমায় আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তবে তারিক জামিল সাহেবের ব্যাপারে বলা হয়েছিল, তিনি হার্টের অসুখে ভোগছেন, আসতে পারবেন কি না, শিউর না।
কিন্তু মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, তারিক জামিল সাহেব ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশে পৌঁছে গেছেন। খবরটির সত্যতা যাচাই করতে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর আবারও যোগাযোগ করে তাবলিগের ওই সূত্রগুলোর সঙ্গে। তারা সংবাদটিকে ভূয়া বলে অভিহিত করেন এবং জানান শুরাপন্থী তাবলিগিদের বিপুল আগ্রহ ইচ্ছে সত্ত্বেও মাওলানা তারিক জামিল সাহেব অসুস্থতা জনিত কারণে এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারেছেন না। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন সম্প্রতি যেন কোনো ধরনের সফরে তিনি বের না হন। জার্নির ধকল তিনি সইতে পারবেন না, হার্টের প্রবলেমও এতে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এদিকে তারিক জামিল সাহেব ছাড়াও পাকিস্তান থেকে তাবলিগের অন্য কোনো মুরব্বিও অংশগ্রহণ করেননি। এর কারণ কী জানতে চাইলে সূত্রগুলোর কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এ থেকে সন্দেহের তৈয়ার হয়েছে, তারিক জামিল সাহেব কি কেবল অসুস্থতা জনিত কারণেই আসেননি, নাকি এর পেছনে সাদপন্থীদের কোনো ধরনের চাপ কিংবা নিরাপত্তা জনিত কোনো সমস্যা রয়েছে?
