উইঘুর-মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের নিপীড়নকে সরাসরি সমর্থন করলেন বিতর্কিত সৌদি যুবরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের বিতর্কিত যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান চীন সফরে গিয়ে দেশটির মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর সরকারের অব্যাহত জুলুম-নিপীড়নকে সরাসরি সমর্থন করেছেন। এই সফরে চীনের উইঘুর দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের স্বপক্ষে বক্তব্য রাখেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউজ উইক।

খবরে বলা হয়, মুসলিম এই সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক সদস্যকে বিশেষ বন্দিশিবিরে রেখে ‘শিক্ষা’ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নিজের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ও অ-চরমপন্থায়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার চীনের রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এসব বন্দিশিবিরে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলমানকে বন্দি রেখেছে চীন। সেখানে তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার নামে নানা প্রকার অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

উইঘুররা হলো তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি জাতিগোষ্ঠী। তারা পশ্চিম চীন ও মধ্য এশিয়ার কিছু অঞ্চলে বসবাস করে। পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাসরত উইঘুর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ এনেছে বেইজিং। অথচ তাঁদের দৈনন্দিন জীবন যাপন নিতান্তই শাদামাটা ও সহজ সাবলীল। সেখানে উগ্রপন্থা কিংবা সন্ত্রাসবাদের নামগন্ধও নেই। তারপরও তাদের ওপর নজরদারির একটি বিস্তৃত কাঠামো বাস্তবায়ন করেছে চীন। বর্তমানে ওই বন্দিশিবিরে কম্যুনিস্ট পার্টির বিভিন্ন বিষয়বস্তু পড়তে লাখ লাখ উইঘুরকে বাধ্য করা হচ্ছে। সাথে আছে ভয়ানক পর্যায়ের নির্যাতন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ‘জিনজিয়াং স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে তুর্কি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দমনমূলক নীতি চালিয়ে আসছে চীন সরকার। ২০১৬ থেকে এসব প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন তিব্বতে কম্যুনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি চেন কুয়াংগুকে জিনজিয়াং-এর দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।’

বিদেশে অবস্থানরত উইঘুর গোষ্ঠীগুলো মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অনুরোধ রেখেছিল, মোহাম্মদ বিন সালমান যেন তার সরকারি এই সফরে এসব বন্দিশিবির নিয়ে চীনকে চাপ দেন। কিন্তু তাঁদের এ অনুরোধ ও আবদারকে থোড়াই কেয়ার করে বিন সালমান হারামাইন শরিফাইনের খাদেম হয়েও নিজের মুসলিম ভাইদের ওপর চলমান জুলুম নির্যাতনকে স্বীকৃতি দিলেন চীন সফরে এসে। এ যেন চরম নির্লজ্জতাকেও হার মানিয়েছে।

সৌদি আরব হারামাইন শরিফাইনের দেশ হবার কারণে মুসলিম সার্থের ব্যাপারে বিশ্ব মুসলিমের একটা আশা ও ভরসা ছিল দেশটির প্রতি। কিন্তু তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার পর সৌদি আরবের নেতৃত্ব মুসলিম-নির্যাতক ও ইসলামের ঘোরতর শত্রুদের সঙ্গে নির্লজ্জের মতো হাত মিলিয়েছে। যেমন, মুসলিম বিশ্বে ইসরাইল নিয়ে ঘোরতর আপত্তি থাকলেও, এবং ইসরাইল অব্যাহতভাবে মুসলিমদের চূড়ান্ত ক্ষতি সাধনে লিপ্ত থাকলেও মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সৌদি আরব দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

হামমাদ রাগিব/

আগের সংবাদআফগানিস্তানে রেকর্ড সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত
পরবর্তি সংবাদসৌদি কারাগারে মানবাধিকারকর্মী ও আলেম বন্দীদের অনশন