ইজতেমার ‘ব্যর্থতায়’ কোনঠাসা, এবার মারকাজ ও ইজতেমা মাঠ ভাগ করার দাবি সাদপন্থীদের

মুসান্না মেহবুব

সদ্য বিগত বিশ্ব ইজতেমায় আলাদাভাবে ইজতেমা করতে গিয়ে লোকসমাগমের কমতি এবং তাবলিগের শীর্ষ ও পুরোনো মুরব্বিদের অনুপস্থিতির কারণে হিমশিম খেতে হয়েছে সাদপন্থীদের।

ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে পরিচালিত ইজতেমার প্রথম তিনদিনে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম ঘটলেও সাদপন্থীদের তিনদিন ইজতেমা ময়দানের অনেক অংশ ফাঁকাই পড়ে ছিল। এমনকি তাদের আখেরি মোনাজাতের সময়ও দেখা গেছে ময়দানের অনেক জায়গা ফাঁকা। ময়দানের বিভিন্ন স্থানে জটলা বেঁধে বেঁধে সাদপন্থীরা মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেছেন। জটলাগুলোতে বেপর্দাভাবে নারীপুরুষ একত্রে বসে মোনাজাত করতেও দেখা গেছে, যা ইসলামি শরিয়াহর সঙ্গে যেমন সাংঘর্ষিক তেম্নি ইজতেমা ও তাবলিগের ঐতিহ্যের সঙ্গেও বেমানান ছিল।

সাদপন্থীদের ইজতেমার এই চিত্রকে ওলামায়ে কেরামের বিরোধিতা করার ফল এবং ইজতেমার ইতিহাসের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। সমালোচকরা আরেকটু আগ বেড়ে বলেছেন, গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ময়দানে অবস্থানরত নীরিহ মাদরাসার ছাত্র ও তাবলিগি সাথিদের ওপর সাদপন্থীরা যে বর্বর হামলা চালিয়েছিলেন, তারই ফলাফল ইজতেমার এই ব্যর্থতা।

এদিকে ইজতেমার পর মাঠ থেকে বেরোনো সাদপন্থীদের চিল্লার জামাতকে প্রত্যাখ্যান করারও খবর আসছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মসজিদগুলোতে তাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছেন না মসজিদ কমিটি ও এলাকার স্থানীয় লোকজন। সাদপন্থীরা জোরজবরদস্তি করে ঢুকতে চাইলে অনেক জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে।

চতুর্মুখীভাবে কোনঠাসা হয়ে সাদপন্থীরা এখন দাবি তুলেছেন ইজতেমা মাঠ মসজিদের কার্যক্রম এবং কাকরাইল মারকাজসহ দেশের সবগুলো মারকাজের দায়িত্ব দুই পক্ষকে স্থায়ীভাবে ভাগ করে দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশে সাদপন্থীদের মূল নেতা ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলাম সরকারের কাছে এ দাবি বারবার জানিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে আলেমপক্ষের বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ইজতেমা মাঠের দায়িত্ব তাঁদের তত্ত্বাবধানে ছিল, সেখানে সাদপন্থীদের অংশীদারিত্ব চাওয়া অযৌক্তক। আর কাকরাইল মারকাজের আট-দশ জন ছাড়া বাকি সকল মুকিমই আলেমপক্ষের। সারা বাংলাদেশের জেলাওয়ারি মারকাজগুলোর চিত্র এমনই। সুতরাং মারকাজগুলোতেও তাদের সমান অংশিদারিত্ব চাওয়া অযৌক্তিক।

আগের সংবাদকুমিল্লায় কিশোরী ধর্ষণ, কাউন্সিলরের ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৩
পরবর্তি সংবাদকেনিয়ায় ৬৫ জন অনুসারীসহ খ্রিষ্টান যাজকের ইসলাম গ্রহণ, গির্জার স্থলে মসজিদ নির্মাণ