
ফাতেহ ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত আরও এক বাংলাদেশির মরদেহ দেশে এসেছে। বুধবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ডাক্তার মোজাম্মেল হক সেলিমের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ বিভাগের পরিচালক এএফএম আমিনুল ইসলাম। মোজাম্মেল হকের পরিবারের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। মোজাম্মেল হকের বাড়ি চাঁদপুর। পেশায় ডেন্টাল সার্জন মোজাম্মেল হক গত সাড়ে তিনবছর আগে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে নিউজিল্যান্ড যান। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ডা. মোজাম্মেল হকসহ ৫ বাংলাদেশি নিহত হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কল্যাণ পরিচালক এএফএম আমিনুল ইসলাম জানান, ‘নিউজিল্যান্ড থেকে মরদেহ আনার ব্যাপারে আমাদের অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন থেকে যথেষ্ঠ সহযোগিতা করেছে। এছাড়া এখানে মরদেহ আসার পরে, মরদেহ সংগ্রহ করা এবং পাঠানোর বিষয়ে আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে যতরকম সাহায্য সহযোগিতা করা যায় আমরা করে যাচ্ছি।’
এর আগে, হামলায় নিহত আরও দুই বাংলাদেশির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায় মঙ্গলবার। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে জাকারিয়া ভূঁইয়া ও ওমর ফারুকের মরদেহ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নিহত ওমর ফারুকের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। আর জাকারিয়া ভুঁইয়া পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে।
জাকারিয়া নিউজিল্যান্ডে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ওয়েল্ডার টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি ক্রাইস্টচার্চ শহরে পাড়ি জমান। নিহত আরেক বাংলাদেশি ডাক্তার মোজাম্মেল হকের মরদেহ বুধবার রাত ১১টায় দেশে পৌঁছাবে।
প্রসঙ্গত, ১৫ই মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৫০ জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে গুলি করে হত্যা করা হয় নামাজরত মুসলমানদের। এই মসজিদেই নামাজে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেরি হওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ক্রিকেটাররা।
ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এতে দেখা যায়, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছে।
এই ঘটনার পর, হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। আগামী ৫ই এপ্রিল টারান্টকে হাইকোর্টে তোলার আগ পর্যন্ত ২০ দিনের রিমান্ড দিয়েছে ক্রাইস্টচার্চের একটি ডিস্ট্রিক্ট আদালত।
