‘ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে আসছে মা! মারা যাচ্ছি বোধহয়’

বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার কারণে ওই ভবনে আটকা পড়েছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে একজনের নাম ফাহাদ ইবনে কবীর। মৃত্যুর মুখোমুখি ওই যুবক ফোন দেন মা ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে। ফোন করে মাকে জানান, ভেতরে আগুনের ধোঁয়ায় তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি দম নিতে পারছেন না। বোধহয় তিনি মারা যাচ্ছেন।

ছেলের সঙ্গে কথা বলার পরপরই মা ফরিদা ইয়াসমিন ছুটে আসেন এফআর টাওয়ারের নিচে। সেখানে ছেলের সন্ধানে তিনি আর্তনাদ শুরু করেন। ফরিদা ইয়াসমিন ঢাকায় ছেলের সঙ্গে থাকতেন।

ফরিদা ইয়াসমিন আর্তনাদ করে বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে এক ঘণ্টা আগেও আমার কথা হয়েছে। এখন তার মুঠোফোন বন্ধ পাচ্ছি। জানি না ছেলের ভাগ্যে কি ঘটেছে।’

তিনি জানান, তার ছেলে ১২ তলায় ডাট গ্রুপে কাজ করতেন। তিনি সেখানকার আইটি ইঞ্জিনিয়ার।

ফাহাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের ভবানীপুরে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ফাহাদ ছোট।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটার দিকে এই আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন লাগার খবর পেয়েই আগুন নেভানোর কর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।

বেলা ২টা নাগাদ ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছিল বলে জানা যায়।

এফআর টাওয়ারটি বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। ভবনটি ২২ তলা বলে জানা গেছে।

ভবনে বিভিন্ন অফিস আছে। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনের ভাষ্য, আগুন লাগার সময় ভবনের ভেতর অনেক লোকজন ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভবনের সপ্তম বা অষ্টম তলায় আগুন লেগেছে বলে তাঁরা প্রথমে জানতে পারেন। পরে অন্যান্য তলায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুরো ভবন আগুন ও আগুন থেকে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এতে ভবনটির কোন কোন তলায় আগুন ছড়িয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আগুন থেকে বাঁচতে কয়েক ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের হতে লাফ দিতে দেখা গেছে। তাঁরা নিচে পড়ে যাওয়ার পর তাঁদের উদ্ধার করেন উপস্থিত লোকজন।

ভবনের ওপরে হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে।

আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্যও জানা যায়নি।

আগের সংবাদ‘ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছি, দ্রুত সিঁড়ি পাঠান’
পরবর্তি সংবাদবহু মানুষ আটকা পড়েছেন আগুনে