
ফাতেহ ডেস্ক
নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন। একজন বিদেশিসহ আগ্নিকান্ডে নিহত হয়েছেন অন্তত নয় জন। আহত ৬৫ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ইউনাইটিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে, উদ্ধারকারীরা ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরে প্রবেশ করে দেখছেন, ভেতরে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি-না।
অগ্নিকাণ্ডে ৭ নিহতদের মধ্যে একজন শ্রীলংকার নাগরিক। নিহত শ্রীলংকার নাগরিকের নাম নিরস ভি কে রাজা। এছাড়া নিহত অন্যরা হলেন, পারভেজ সাজ্জাদ, আমেনা ইয়াসমিন, মামুন আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মাকসুদুর ও মনিরা।
আগুন নেভাতে দমকল বাহিনীর ২১টি ইউনিটের চাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী আংশ নেয়। চার বাহিনীর সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন এলাকাবাসী ও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্কাউটস সদস্য। তবে এখনও পর্যন্ত ভবনটিতে অবস্থান করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পাঁচ মিনিটে এফ আর টাওয়ারের সাত অথবা আট তলায় আগুন লাগে। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পার বলে ধারণা করা করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ধীরে ধীরে ভবনের ৯ তলা থেকে আগুন ছড়াতে থাকে ওপরের তলাগুলোতে। আটকা পড়েন ওইসব ফ্লোরে থাকা কর্মজীবী মানুষ। অনেকে আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে আহত হন। অনেকে ওপরের তলায় ও ছাদে আশ্রয় নেন।
আটকে থাকা কেউ ভবনের সঙ্গে থাকা ইলেকট্রিকের তার ধরে নামার চেষ্টা করেন। ভেতর আটকে থাকা অনেকে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে হাত বের করে সাহায্য চাইতে থাকেন।
ওদিকে, আগুনের ভয়াবহতার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস তাদের ইউনিট বাড়াতে থাকে। আগুন নেভানোর পাশপাশি চলতে থাকে উদ্ধার অভিযানও। ফায়ার সার্ভিস ছাড়া বিমান বাহিনী হেলিকপ্টার দিয়ে চলতে থাকে উদ্ধার অভিযান।
২২তলা বাণিজ্যিক ভবনটিতে অনেক অফিস থাকায় এবং আজ কর্মদিবস হওয়ায় তাতে ঠিক কতজন মানুষ ছিল সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রতিদিন আনুমানিক এক হাজার মানুষ ভবনটিতে যাওয়া-আসা করতেন।
আগুন নেভানোর সুবিধার জন্য আশপাশের রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বিকালে শুরু হয় পানির সংকট। বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করার পর আবার আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়।
পাঁচটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে ভবনের ছাদে আশ্রয় নেয়া মানুষদের উদ্ধার করে বিমানবাহিনী। আর ভবনের বিভিন্ন তলায় আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে মই ও ক্রেন ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে, আগ্নিকান্ডের সূচনায় ভবনটিতে আটকে পড়া লোকজন তাদেরকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাইভ করেন। এছাড়া ২২ তলা ভবনটির বিভিন্ন জানালা থেকে হাত নেড়ে ও বিভিন্ন ভাবে সংকেত পাঠাতে থাকেন ভবনটিতে আটকে পড়া বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে, ২২ তলা বিশিষ্ট এফআর টাওয়ারের নবম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনে আটকা পড়েন বহু মানুষ। আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন।
আগুন নেভানো ও উদ্ধারের পাশপাশি ভবনের নীচে, আর হাসপাতালগুলোতে অপেক্ষা করতে থাকেন স্বজনরা।
