চকবাজার ট্রাজেডি: দেড় মাসেও মেলেনি প্রতিশ্রুত আর্থিক সহযোগিতা

ফাতেহ ডেস্ক

আশ্বাসই মিলেছে শুধু। ক্ষতিপূরণের কোন অর্থ এখনো পায়নি চুরিহাট্টায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্থরা। ঘটনার দীর্ঘ দেড়মাস গত হলেও সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন পক্ষের লোকজন যোগাযোগও আর করেনি।

‘এভাবে আর কত? আমরা ব্যবসায়ীরাতো একেবারে পথে বসে গেছি।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন চুরিহট্টার আগুনে পোড়া ওয়াহেদ ম্যানসনের প্লাস্টিক ব্যবসায়ী এম এ রহিম।

চুরিহাট্টা মসজিদের সামনে পান দোকানদার আলমগীর। সেদিনের আগুনে তিনি হারিয়েছেন তার প্রতিবন্ধী ২২ বছরের ছেলে পারভেজকে। অগ্নিকাণ্ডের সময় পাশের অনেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেলেও প্রতিবন্ধী পারভেজ সরে যেতে পারেনি। রাস্তায় পুড়ে মারা যায় সে। আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, সবাই শুধু আশ্বাস দেয়; কিন্তু কেউ কথা রাখে না।

এদিকে সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন নিয়ে শুক্রবার সকাল ১০ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে চকবাজারের চুরিহাট্টার ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী এবং আহত ও নিহতদের পরিবার। ঐক্যবদ্ধ সকল সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শুক্রবারের মানববন্ধনে অংশ নেবে ছোট-বড় আরো প্রায় ১৪টি সংগঠন। ইতোমধ্যে মানববন্ধনে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়ে চকবাজার এলাকায় মসজিদে মসজিদে হ্যান্ডবিলও বিলি করা হচ্ছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শুক্রকারের মানববন্ধনে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে সোনাইমুড়ি মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন, প্রতিদান ফাউন্ডেশন, চুরিহাট্টা একতা সংঘ, নবীন সংঘ, টাইগার স্পোর্টিং ক্লাব, ধ্রবতারা সংঘ, আলোর শিখা সামাজিক সংগঠন, বন্ধুমহল স্পোর্টিং ক্লাব, নাটেশ্বর সমাজ কল্যাণ সংঘ, শাপলা যুব সমাজ কল্যাণ সংগঠন, নিমসেবা ফাউন্ডেশন, অভিযান ক্লাব, নোয়াখালি বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটি, বড় কাটরা মাদরাসা, অনিন্দ রক্তদান ফাউন্ডেশনসহ আরো কয়েকটি সংগঠন।

সোনাইমুড়ি মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাসেল কবির জানিয়েছেন, ঘটনার পরে সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী, আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন; কিন্তু শুধুমাত্র জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের মধ্য থেকে ২১ জন শ্রমিকের একটি তালিকা নিয়েছে; কিন্তু তারাও কোন অনুদান এখনো দেননি। ঘটনার পর শিকদার মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর আহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে; কিন্তু তারাও কোন অনুদান দেয়নি।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা ছাড়াও আগুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরি দেয়ারও দাবি জানানো হবে মানববন্ধনে।

উল্লেখ্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুরিহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয় ৭১ জন। আহত ও ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আরো অনেকে। আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা এখন নিদারুণ কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আগের সংবাদমুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইলেন নিউজিল্যান্ডের সেই কাউন্সিলর
পরবর্তি সংবাদমুফতী আমিনীর নারী ও শিক্ষানীতি বিরোধী হরতাল : ফিরে দেখা ৪ এপ্রিল