দেওবন্দের মরহুম মুহাদ্দিস ও ফকিহ জামিল আহমাদ সিকরোডভি : যেমন ছিল তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন

হুমায়দী হুসাইন

মাওলানা জামিল আহমাদ সিকরোডভি রাহিমাহুল্লাহ দারুল উলুম দেওবন্দের হাদিস ও ফিকহের সম্মানিত উসতাজ। দীর্ঘদিন ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত থাকার পর গত ৩১ মার্চ রোববার ইহকাল ত্যাগ করেন। ১ এপ্রিল সোমবার সকাল নয়টায় দারুল উলুম দেওবন্দের ‘ইহাতায়ে মুলসরি’তে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আমাদের মুয়াত্তা লিল ইমাম মালিকের সম্মানিত উসতাজ। তাঁর পিতার নাম, জনাব জান মুহাম্মাদ। তিনি হরিদওয়ার জেলার সিকরোডার অধিবাসী।

জন্ম : তিনি ১০ এপ্রিল, ১৯৫০ সালে এ নশ্বর পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবন : তিনি প্রথমদিকে জামেয়া কাশিফুল উলুম চটমলপুর এবং মাদরাসায়ে খলিলিয়া সাহারানপুরে শিক্ষাদীক্ষা গ্রহণ করেন। ১৩৮৫ হিজরি, মোতাবেক ১৯৬৬ সালে আজহারে হিন্দ দারুল উলুম দেওবন্দে প্রবেশ করেন এবং ১৩৯০ হিজরি, মোতাবেক ১৯৭০ সালে হজরত মাওলানা সায়্যিদ ফখরুদ্দিন সাহেব মুরাদাবাদি রাহ. থেকে সহিহ বুখারির সনদ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান।

পাঠদান : শিক্ষকজীবনের সূচনায় জামেয়া রাহমানুয়া হাপুড়ে নিয়োগ পান। পরে জামেয়া কাশিফুল উলুম চটমলপুরে,অতপর সাহারানপুরস্থ কাসিমুল উলুম গাগল হেড়ি মাদরাসায় সদরুল মুদাররিসিন ও শিক্ষাসচিবের দায়িত্বভার সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেন।

দারুল উলুমে নিয়োগ : ১৩৯৯ হিজরি, মোতাবেক ১৯৭৯ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে উসতাজ হিসাবে নিয়োজিত হন। ১৯৮২ সালে দারুল উলুমের ফিতনাকালে দারুল উলুম ওয়াকফের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যান। ২০০০ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ তাঁকে পুনরায় নিয়োগ প্রদান করে এবং মৃত্যকাল অবধি উসতাজুল ফিকহ ওয়াল হাদিস হিসাবে দায়িত্ব আঞ্জাম দেন।

রচনাবলি : তাঁর পাঠদান যেমন সকল ছাত্রের কাছে পছন্দনীয় ও গ্রহণীয় ছিল, রচনাবলিও তেম্নি সর্বমহলে সমাদৃত। তিনি দরসি কিছু বইয়ের উর্দুভাষায় ব্যাখ্যা করেন, যা পাঠকমহলে বেশ আলোচিত। শরাহের মাধ্যমে তাঁকে চিনে না এমন তালেবে ইলম পাওয়া দুরুহ। তিনি একাধারে লিখেন–ফয়জে সুবহানি শরহে হুসামি, কুতুল আখইয়ার শরহে নুরুল আনওয়ার, আশরাফুল হিদায়া শরহে হিদায়া, প্রথম তিন খণ্ডের। তাফহিমুল হিদায়া শরহে হিদায়া চতুর্থ। তাকমিলুল আমানি শরহে মুখতাসারুল মাআনি, আজমালুল হাওয়াশি শরহে উসুলুশ শাশি ও তাফসিরে বায়জাভির শরাহ (সুরা বাকারাহ)। তিনি তাহাভির ব্যাখ্যাও লিখেছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সেরতাজ মুহতারাম এ মনীষী উসতাজকে তাঁর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়ে পরকালীন জিন্দেগিকে শান্তিময় করে রাখুন। আমীন।

লেখক : শিক্ষার্থী, তাকমিল ফিল হাদিস, দারুল উলুম দেওবন্দ

আগের সংবাদইসরায়েলি সেনাদের হামলায় ৪ মাসে প্রাণ হারাল ফিলিস্তিনের ১১ শিশু
পরবর্তি সংবাদ‘অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা উচিত’