কবিরাজের ছদ্মবেশে এসে খুন করেছিলেন প্রতিপক্ষকে

ফাতেহ ডেস্ক

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার ভিটি গ্রামের মৃত আহম্মেদ আলীর ছেলে হারুন প্রামাণিক। জমিজমার বিরোধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইছহাক হোসেনকে টানা দেড় মাস পরিকল্পনা করে কবিরাজের ছদ্মবেশে সুযোগ বুঝে একদিন হত্যা করেছেন তিনি। শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হারুন প্রামাণিক।

গেল বছরের ৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ইছহাক হোসেন দলীয় কার্যালয়ে মিটিং শেষে তার নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় আগ থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এঘটনায় দীর্ঘ ৪ মাস পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রাখে। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিকে আটক করে পুলিশ। পত্নীতলা থানা পুলিশ জানিয়েছে, টানা আটদিন অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার গাজীপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। শনিবার নওগাঁ বিজ্ঞ আদালতে হারুন প্রামাণিক ১৬৪ ধারায় খুন করার বিষয়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে জেল হাজতে থাকা অবস্থায় নজিপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ অরুফে লিটু ফকিরের সাথে খুনি হারুন প্রামানিকসহ অন্যান্য আসামিদের পরিচয় হয়। সেখানে থাকা অবস্থায় পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইছহাক হোসেনের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যার পরিকল্পনা করে লিটু ফকির। এক সময় জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন আসামিরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগ থেকে ওই এলাকায় আসামিরা কবিরাজ সেজে ছদ্দবেশে থাকত। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে খুনিদের সাথে লিটু ফকিরের চুক্তি হয়। ঘটনার রাতে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর লিটু ফকির মোবাইলের মাধ্যমে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। লিটু ফকিরের সার্বিক নির্দেশনায় ও সহযোগীতায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

ঘটনায় নিহতের শ্যালক আবুল কালাম আজাদ অরুন বাদী হয়ে পত্নীতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ একই এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দীন ফকিরের ছেলে নজিপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ অরুফে লিটু ফকিরসহ দুইজনকে আটক করে।

তিনি আরো বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় খুনি হারুনকে আটক করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক ইছহাক হত্যাকাণ্ডের জবানবন্দি প্রদান করেছে। উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনের দিক নির্দেশনায় অতিক্তি পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ও পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ পরিমল কুমার চক্রবর্তীর সার্বিক সহযোগীতায় মামলার তদন্তকারী অফিসার পত্নীতলা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জহুরুল হক, এসআই রবিউল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে ৮ দিন অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর ডাইনকিনি এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত মূল আসামি হারুন প্রামাণিককে আটক করা হয়।

আগের সংবাদরাসুলের শানে বেয়াদবি : ভণ্ড বক্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত
পরবর্তি সংবাদধর্ষণের বিনিময় ২০ টাকা!