
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আফগানিস্তানের মাটিতে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চালানো আমেরিকার যুদ্ধাপরাধের তদন্তের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। প্রসিকিউটররা এ তদন্তের আবেদন করেছিলেন। জবাবে আইসিসির বিচারকরা দেশটির অস্থিতিশীলতার অজুহাত দেখিয়ে বলেছেন, দেশটির ভেতর থেকে তদন্তকারীদের সহযোগিতায় নাকি ঘাটতি রয়েছে। আইসিসির তিন বিচারকের বেঞ্চ সর্বসম্মত রায়ে বলেছেন, এ ধরনের তদন্ত ‘ন্যায়বিচারে’র স্বার্থে নাকি কোনো কাজে আসবে না। ফলে রায়টি যাদেরকে বাঁচাতে এবং খুশি করতে দেয়া হয়েছে, তারা খুশি হয়েছে। এ রায়ের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে বড় এক ‘আন্তর্জাতিক বিজয়’ হিসেবে দেখছেন। তবে এ রায়ের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
আইসিসির প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে এমন তদন্তের আবেদন করেছিলেন তিনি। ধারণা করা হয়, এ আবেদনের কারণে তার মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ওদিকে আইসিসিকে অবৈধ আখ্যায়িত করলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ রায় সম্পর্কে বলেছেন, এটা শুধু ওইসব দেশপ্রেমিকের বিজয় নয়। এটা আইনের শাসনেরও বিজয়। তিনি বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে বিচার করার চেষ্টা করা হয় তাহলে তার দ্রুত ও কঠোর জবাব দেয়া হবে।
আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্তের বিরুদ্ধে দেয়া এমন রায়ের কড়া সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, তদন্ত প্রত্যাখ্যান করা হলো নির্যাতিত মানুষের হতাশাকে ত্যাগ করা। এমনিতেই আইসিসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ রায়ে তাদের সেই বিশ্বাসযোগ্যতা আরো দুর্বল হবে।
অ্যামনেস্টির বিরাজ পাটনায়েক বলেছেন, আইসিসির এ রায়কে দেখা হবে ওয়াশিংটনের ভয়ে ভিরুতা হিসেবে।
