
ফাতেহ ডেস্ক
রংপুরের মিঠাপুকুরের মির্জাপুরে গণধর্ষণের শিকার ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর দুই বোনের একজনের আত্মহত্যার চারদিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। এর আগে মিঠাপুকুর থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এখন তিনি বলছেন, আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত রতনের বাবাকে। এদিকে, তদন্ত শুরুর পর বিচার পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিজের থানায় জিডি আর তার ভিত্তিতেই লাশের ময়নাতদন্ত হলেও মঙ্গলবার তা নিয়ে কিছুই জানেন না, এমন কথাই বলেছিলেন মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর বিশ্বাস। তবে, একরাতে বদলে গেছে পরিস্থিতি। নিজেই উদ্যোগী হয়ে মামলা নিয়েছেন। অভিযুক্ত রতন মাঞ্জি ও অজ্ঞাত দুই সহযোগীকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। সে কিছু তথ্য দিয়েছে। সেটা নিয়ে আমাদের দু-তিনটা টিম কাজ করছে।
বিকালে জেলা প্রশাসক এনামুল হাবিব ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নির্যাতিতদের বাড়িতে গিয়ে সুবিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বস্তি ও বিচার পাবার আশা করছেন ধর্ষণের শিকার ও আত্মহত্যাকারী স্বপ্না টপ্পার স্বজন ও এলাকাবাসী।
সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন নির্যাতিতার বাবা ও স্বজন-বন্ধু-এলাকাবাসী।
তবে, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি পুলিশের অবহেলার তদন্ত করে বিচার চাইছেন নারী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মীরা। নারী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক মুঞ্জুশ্রী সাহা বলেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হলো, এখানে মেয়েটা নিজে মরলো, কতটা লজ্জা-অপমান-যন্ত্রণা নিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ কর্মকর্তার যদি গাফিলতি থেকে থাকে সেক্ষেত্রে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা যে তাঁরা বিষয়টা খতিয়ে দেখবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি ফিরোজ আলম জানান, আইনগত সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার রংপুর শহরে আত্মীয়ের বাসায় ছোটবোনকে নিয়ে বেড়াতে যায় মিঠাপুকুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্না। শুক্রবার সকালে মাহিগঞ্জ এলাকায় প্রেমিক রতন মাঞ্জির সঙ্গে দেখা করতে যায় দুবোন। সেখানে কৌশলে রতন ও তার দুই সহযোগী দুই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। ঐদিন বাড়িতে ফিরেই আত্মহত্যা করে স্বপ্না।
