
ফাতেহ ডেস্ক
বাংলাদেশে প্রতি বছরই দাবদাহের পরিমান তুলনামূলক বেড়ে যাচ্ছে অনেকখানি। এর প্রভাব নানাভাবে আমাদের জনজীবন, খাদ্য ও কৃষির ওপর আরোপিত হচ্ছে । বিশেষজ্ঞদের ভাবনা ,এর পেছনে ফারাক্কা বাঁধই হচ্ছে মূল কারণ ।
ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে প্রতি বছরই কমে যাচ্ছে দেশের অন্যতম নদী পদ্মার পানি সমতলের উচ্চতা। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্য নদীগুলোর ওপর। ফলে বর্ষা মৌসুমে যেমন বাড়ছে ভাঙনের প্রবণতা, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে ক্রমেই পানির অভাবে মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পদ্মার অববাহিকায় থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
এর বিরূপ প্রভাবে গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলের মানুষ তথা উত্তরাঞ্চলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। ফারাক্কা দিন দিন গ্রাস করছে এ অঞ্চলের মানুষের অধিকার। সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা যেমন বাড়ছে; তেমনি নিঃস্ব মানুষগুলোর করুণ আর্তনাদ প্রতিনিয়তই সৃষ্টি করছে শোকাবহ পরিবেশের।
ভারত থেকে বয়ে আসা গঙ্গা নদী বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ঢুকে পদ্মা নাম ধারণ করে। এই নদীকে কেন্দ্রে করেই একসময় আবর্তিত হতো এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। তবে সময়ের ব্যবধানে এই নদী এখন এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কারণ। ১৯৭৫ সালে ভারত এই নদীর উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর বদলে যেতে থাকে এই নদীর গতিপথ। আবার বর্ষা মৌসুমে ছেড়ে দেওয়া পানিতে একদিকে যেমন নদীগর্ভে বিলীন হয় গ্রামের পর গ্রাম, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল পরিণত হয় ধূ-ধূ বালু চরে।
বর্তমানে একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হওয়া এই নদী যেন মাঝে মাঝেই তাড়া করে বেড়ায় এখানকার বাসিন্দাদের। ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘর-বাড়ি, ফল-ফসলসহ সবকিছু। বিরূপ আবহাওয়ায় প্রতিবছর যেমন বাড়ছে তাপমাত্রা তেমনি, বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে এ অঞ্চল। আর নদী পানিশূন্য হওয়ায় কর্মসংস্থান হারাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষেরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আহসানুল হক জানান,‘ ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে নদী পানিশূন্য থাকায় মাইলের পর মাইল বালুর চর জেগে ওঠায় তাপমাত্রা প্রতিবছরই বাড়ছে। যা সহ্য করা এখন আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাপমাত্রা বাড়ায় নতুন নতুন রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়ও।’
একই এলাকার জেলে এজাবুল হক জানান, ‘আগে পদ্মা নদীতে মাছ মেরে সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করেছি। বর্তমানে নদীতে পানি নাই; তাই আর মাছও হয় না। এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব সমস্যার মধ্যে আছি। আর আমাদের জেলেদের এ সমস্যার জন্য দায়ী ফারাক্কা বাঁধ। ’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঙ্খা পয়েন্ট থেকে ফারাক্কা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বাঁধ নির্মাণের আগে শুষ্ক মৌসুমে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কিউসেক পানি আসতো বাংলাদেশে।
তবে এমন পরিস্থিতি বদলাতে পারে যদি সরকার নদী ড্রেজিং করে মাছের উৎপাদন, সেচ-সুবিধাসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের যুগান্তকারী পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়। সর্বোপরি প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে পানিচুক্তির সঠিক বাস্তবায়নে সরকার অগ্রণী ভূমিকা নেবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
