
ফাতেহ ডেস্ক
‘কারাগারের দূষণযুক্ত পরিবেশে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথা। যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। জাউ খেয়ে কোনোরকমে জীবন ধারণ করছেন। অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। অবিলম্বে তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’ বিএনপির কারারুদ্ধ চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এমনটাই বলছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ।
জমির উদ্দিন সরকার অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বন্দী হওয়ার অনেক আগে থেকেই নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। একজন বর্ষীয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়। কারাগারে অবস্থানকালীন তার কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচ ব্যথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষণœতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এটি মেনে নেওয়া হবে না। এটি মানবতাবিরোধী কাজ। ‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব না, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে’- বারবার এমন বক্তব্য দেওয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই।
মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না।
