
ফাতেহ ডেস্ক
রাজধানীর ৮টি এলাকা পরিদর্শন করে প্রায় ২ হাজার বহুতল ভবনের মধ্যে মাত্র ২৯৩ টিকে সর্বাংশে ত্রুটিহীন পেয়েছে রাউজকের তদন্ত দল। বাকী ভবনগুলোর কোনটিতে নকশা জটিলতা, আবার কোনোটির নকশাই দেখাতে পারেন নি ভবন মালিকরা। ত্রুটিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আরেকটি দুর্ঘটনার আশঙ্কা নগর পরিকল্পনাবিদদের।
আর গণপূর্তমন্ত্রী বলছেন, আইনের ফাঁক গলে যাতে অভিযুক্তরা বের হয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে সরকার।
পুরান ঢাকায় একটি চুড়িহাট্টা, কিংবা অভিজাত বনানী এলাকার এফ আর টাওয়ার। এক একটি দুর্ঘটনা, অজস্র প্রাণহানি আর কান্নার আবরণে মোড়ানো আমাদের অসহায়ত্ব আর বেদনার অবিমিশ্র গল্প যেন।
একমাসের ব্যবধানে সাম্প্রতিক সময়ের বড় দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে সরকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আর দফতরগুলো। পুরো রাজধানীকে ৮টি জোনে ভাগ করে অভিযানে নামে রাজউকের ২৪টি দল। তবে শুরুতে শুধুমাত্র বহুতল ভবনগুলোকে চিহ্নিত করতে চালানো হয় অভিযান।
১৮১৮টি ভবনে চালানো অভিযানের ফলাফল বলছে, এর মধ্যে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র নেই ১১৫৫টি ভবনে। অগ্নি নির্গমন সিঁড়িতে সমস্যা আছে ১২৮৭টিতে। আরও অসংখ্য অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি তাই এড়ানো যাচ্ছে না কিছুতেই।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এটা তো খুবই একটা দুঃসংবাদ। এখান থেকে বুঝা যায়, আমরা কি রকম ঝুঁকির মধ্যে আছি। এই যে, রানা প্লাজা। সেখানে কার কার গাফিলতি। রাজউক এলাকার ভিতরে একটা ভবন। সেখানে রাজউক তদারকি করে নাই বা তাদেরকে খবরও দেয় নাই। কিন্তু খবর নেয়ার দায়িত্বও রাজউকের।
এ ১৮১৮টি ভবনের মধ্যে নকশাই দেখাতে পারে নি এমন ভবনের সংখ্যা ৪৩১টি আর সরকারি ভবনে নকশা প্রদর্শন করা হয়নি এমন সংখ্যা ৪৪টি। এর আগে যতবারই ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ততবারই উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের আশ্রয় নিয়েছেন ভবন মালিকরা। এবার যাতে সে সুযোগ না পান, সেটা মাথায় রেখেই এগুচ্ছে সরকার।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমি যদি তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই কালকে ভাঙার নোটিশ দেই তাহলে হাইকোর্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধা মিনিটে স্টে হয়ে যাবে। এইজন্য আমি ধরতে চাই শক্ত করে।
পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব এলাকায় সব ভবনেই এ অভিযান চালানো হবে। রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করে রাজউক যে অভিযান চালায় তাতে নকশা বহির্ভূত নির্মাণ, অগ্নিনির্বাপণ সমস্যাসহ সবচেয়ে বেশি সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায় চার নম্বর জোনে। অর্থাৎ, বনানী, গুলশান, বারিধারা, খিলক্ষেত, কারওয়ান বাজা র এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়। অভিযান অব্যাহত থাকলে এই তালিকা ক্রমেই আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
