
রাগিব রব্বানি
প্রতিবছর রমজানের শেষ সপ্তাহে কিংবা শাওয়ালের প্রথম সপ্তাহে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডগুলো তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত সব জামাতের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করলেও এ বছর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষাটির ফলাফল প্রশ্নফাঁস বিড়ম্বনার কারণে নির্ধারিত সময়ের মাস খানেক পর প্রকাশিত হবে। হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জানিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শাওয়ালের তৃতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হবে এ বছরের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার ফলাফল।
ফলাফল দেরিতে প্রকাশিত হবার কারণে অনেক পরীক্ষার্থীই এবার বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। কারণ, কওমি মাদরাসাগুলোর শিক্ষাবর্ষ শাওয়াল থেকে শুরু হয়। শাওয়ালের প্রথম দেড় সপ্তাহের ভেতর বড় এবং মানসম্মত মাদরাসাগুলোর ভর্তিকার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে করে দাওরায়ে হাদিসের যারা পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে তাখাসসুস পড়তে ইচ্ছুকেরা দাওরার ফলাফল না থাকার কারণে ভর্তিবিড়ম্বনায় পড়তে পারেন। এদিকে নবীন এ আলেমদের মধ্যে যাঁরা মাদরাসার শিক্ষকতা পেশায় ঢুকতে চাইবেন, তাঁরাও ফলাফল না থাকার কারণে মাদরাসা পেতে সমস্যা হতে পারে।
এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম হাইআতুল উলয়ার অন্যতম সদস্য সিলেট গহরপুর জামিয়ার মুহতামিম মাওলানা হাফিজ মুসলেহুদ্দীন রাজুর সঙ্গে। মাওলানা রাজু ছাত্রদের অসুবিধা ও বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করত দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আসলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার কারণে এবারের পরীক্ষায় বিড়ম্বনার সৃষ্টি হওয়ায় সবকিছু অগোছালো হয়ে গিয়েছে। তাই ফলাফল তৈরিতে এই বিলম্বের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাওলানা রাজু ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, দাওরায়ে হাদিসের এ বছরের পরীক্ষার্থী ছাত্রভাইদেরকে সীমাহীন বিড়ম্বনার ভেতর দিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তারপরও ধৈর্যের সঙ্গে তাঁরা হাইআতের সকল সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং সিদ্ধান্ত মুতাবিক পরীক্ষা দিয়েছেন। এই ধৈর্যধারণ এবং মুরব্বিদের আনুগত্য—এটা আমাদের ঐতিহ্য এবং গৌরব। এ বছরের পরীক্ষার্থী ভায়েরা সেই ঐতিহ্য ও গৌরবকে আরও উচ্চকিত ও মহিমান্বিত করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, হাইআও সর্বোচ্চ চেষ্টা, সতর্কতা ও সততার সঙ্গে চক্রান্তকারীদের সকল চক্রান্ত ভেদ করে সুচারুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মাওলানা রাজু আরও বলেন, ছাত্র ভাইদের প্রতি আরজ থাকবে, প্রশ্নফাঁস বিড়ম্বনার কারণে যেহেতু একটা ধকল পোহাতে হয়েছে হাইআকে, তাই ফলাফল প্রকাশে যেটুকু বিলম্ব হবে, সেটুকু সময়ও যেন তাঁরা ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করেন।
হাইআতুল উলয়ার কনিষ্ঠ এ সদস্য আরও বলেন, আমরা আশা করছি, ফলাফল প্রকাশে দুই-তিন সপ্তাহের বিলম্বে ছাত্রভায়েরা খুব একটা বিড়ম্বনার শিকার হবেন না। যাঁরা তাখাসসুসে ভর্তি হবেন, যে মাদরাসায় ভর্তি হবেন, এবং যাঁরা খেদমতে নিয়োজিত হবেন, যে মাদরাসায় নিয়োজিত হবেন, আমাদের বিশ্বাস, মাদরাসাওয়ালারা ফলাফল প্রকাশের এ বিলম্বের জন্য তাঁদের ভর্তি কিংবা নিয়োগ আটকাবে না। তাছাড়া আমাদের মাদরাসাগুলোতে ছাত্রভর্তি ও শিক্ষকনিয়োগে ফলাফলের দিকে খুব একটা ভ্রুক্ষেপ করা হয় না, বরং যোগ্যতার মানদণ্ডে মাপা হয় প্রতিটা ছাত্র কিংবা প্রতিজন ওস্তাদকে।’
তবে প্রশ্নফাঁস বিড়ম্বনার কারণে পরীক্ষা নিতে দেরি হলেও ফলাফল তৈরিতে এত সময় লাগার কথা না, বরং বিশেষ চেষ্টায় নিয়মিত সময়েই ফলাফল প্রকাশ করা যেত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। হাইআর উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা ব্যাপারটি স্বীকার করে জানিয়েছেন, হাইআর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগে যোগ্য ও কর্মঠ লোকের ঘাটতি থাকার কারণে এমনটা হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে যোগ্য ও কর্মঠ লোকের মাধ্যমে ঢালাওভাবে নতুন বিন্যাসে সাজাবার প্রয়োজনীয়তা বোধও করছেন তাঁরা। কিন্তু বোর্ডের ভেতর নানামাত্রিক টানাপোড়েনের কারণে সেটা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
