
ফাতেহ ডেস্ক
সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা যে দায়ী তার ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ আছে। তাই সৌদি যুবরাজসহ ওই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা দরকার। জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের এ তদন্তই প্রথম স্বাধীন তদন্ত। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের তদন্তকারী অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। বহুল আকাঙ্ক্ষিত এ তদন্তের প্রতিবেদন গতকাল বুধবার প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটে ঢোকার পর খাশোগিকে সেখানেই হত্যা করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রথমে এ বিষয়ে কিছুই জানে না দাবি করলেও পরে তারা স্বীকার করে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনসহ একদল দুর্বৃত্ত খাশোগিকে হত্যা করেছে। সৌদি আরবের অ্যাটর্নি জেনারেল পরে এটাও স্বীকার করেন, ওই হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘খাশোগি উদ্দেশ্যমূলক, পূর্বপরিকল্পিত, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসারে সৌদি আরব দায়ী।’ তদন্তে যুবরাজসহ দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়ী থাকার ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজসহ দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো তদন্ত করা জরুরি এবং এ তদন্ত হতে হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।
তদন্ত প্রতিবেদনে অ্যাগনেস তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাক্ষ্য-প্রমাণের কথা উল্লেখ করেছেন। বলে রাখা ভালো, তুরস্কই প্রথম জোরালো ইঙ্গিত দেয় যে খাশোগিকে হত্যার পেছনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদের হাত আছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিআইএ সরাসরি বলেছে, যুবরাজের নির্দেশে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।
অ্যাগনেস তাঁর প্রতিবেদনে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে জানান, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর একপর্যায়ে খাশোগিকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এরপর প্লাস্টিকের ব্যাগে তাঁর মাথা ঢুকিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়। খাশোগিকে ইনজেকশন দেওয়ার আগে হত্যাকারীদের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদের বিষয়টিও অ্যাগনেসের প্রতিবেদনে আনা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে, খাশোগিকে হত্যার পর দেহ টুকরো টুকরো করে আলাদা ব্যাগে ভরে কনস্যুলেট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর দেহাবশেষ অবশ্য কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কনস্যুলেটের ভেতর সৌদি আরব পরিচালিত তদন্তের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে অ্যাগনেস মন্তব্য করেন, ঘটনাস্থল ‘সম্পূর্ণ এমনকি ফরেনসিকভাবে পরিষ্কার’ করে ফেলা হয়। ফলে তিনি সৌদি তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং সৌদি আরবের এ কর্মকাণ্ড ‘বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করার সমতুল্য হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সৌদি আরব অবশ্য খাশোগি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের মতো করে বিচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
