ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান কারাগারে

ফাতেহ ডেস্ক

ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হেফাজুতুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউনিয়ন ক্যাপিটালের মামলায় নগরীর আগ্রাবাদ থেকে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

সিএমপির সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন জানান, ঋণখেলাপি ও চেক প্রতারণার মামলায় হেফাজুতুর রহমানকে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে জামিন আবেদন জানানো হলেও শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হেফাজুতুর রহমানসহ তার পরিবারের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি পরোয়ানা রয়েছে। উল্লেখ, বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়ে বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনগণের আমানত নিয়ে ফেরত দেবে না, এটা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচিত একজন ঋণখেলাপিকে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হল। প্রভাবশালী ও আলোচিত এক ঋণখেলাপিকে জেলে পাঠানোর নজির দেশে এই প্রথম। জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সঠিক সময়ে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে পরিস্থিতি আজ এ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে পদক্ষেপ নেয়া হলে ব্যাংকিং খাত নাজুক অবস্থায় পড়ত না। এরপরও যেহেতু বিচার বিভাগের মাধ্যমে তিনি জেলে গেছেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

সূত্র জানায়, মোস্তফা গ্রুপের ৩১ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ফান্ডেড (নগদ) ১ হাজার ৪১৩ কোটি এবং নন-ফান্ডেড (এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টি) ১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আবার মোট ঋণের খেলাপি ৪৩৫ কোটি টাকা এবং অবলোপন করা হয়েছে ২০০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ ছাড়া খেলাপি ঋণের মধ্যে ৪০৭ কোটি টাকাই কুঋণ। এগুলোর ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। অন্যদিকে ৬০৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে উচ্চ আদালতের স্থগিত আদেশ রয়েছে। এ টাকা পরিশোধের সময় সীমা শেষ হলেও স্থগিত থাকার কারণে সেগুলো খেলাপি দেখানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেয়া হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। এ ঋণের বেশিরভাগই খেলাপি। ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত জামানত নেই। ঋণের টাকা ব্যবসায় না লাগিয়ে অন্য কাজে লাগানো হয়েছে। যে কারণে বেশিরভাগ ঋণই আদায় হচ্ছে না।

আগের সংবাদরোহিঙ্গা শরণার্থীদের কল্যাণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কোটি ৮০ লাখ ইউরো সহায়তা
পরবর্তি সংবাদরেকর্ড গতিতে গলছে হিমালয়ের হিমবাহ