পাকিস্তানের বিখ্যাত মহিলা মাদরাসা জামিয়া হাফসা অবরুদ্ধ, ছাত্রীরা পাচ্ছে না প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসা

আবু জর

পাকিস্তানের ঐতিহাসিক লাল মসজিদ সংলগ্ন মাদরাসা হাফসার ছাত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের গত তিনমাস যাবত নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে প্রশাসন। এমনকি গতকাল ২২ জুন নজরদারি এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে, মাদরাসার অভ্যন্তরে খাবার পৌঁছানোও বন্ধ হয়ে যায়। এবং সরকার কর্তৃক বিনা কারণে মাদরাসার চারপাশে একটি যুদ্ধংদেহী পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখা হয়।

মূল সমস্যা সৃষ্টি হয় ২০১৪ সালে। আলোচিত লাল মসজিদের জায়গায় গভর্নমেন্ট জামিয়া হাফসাকে একটি জমি প্রদান করে। এবং জোরপূর্বক শর্ত দেয়া হয়, এখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের আন্তরিকতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে গত চার বছরে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করলে প্রশাসন নামাজ আদায় করতে বাধা দেয়। এবং পুলিশ এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে যায়। পুলিশ এর কোনো সঙ্গত কারণ দেখাতে পারে না।

অতঃপর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে মাদরাসা হাফসার কয়েকটি ক্লাস নব নির্মিত মসজিদের বিল্ডিংয়ে নিয়ে আসেন। এবং সেখানে যথারীতি ক্লাস করতে থাকেন। সেখান থেকেই পুনরায় বিরোধের শুরু। পুলিশ বার বার মাদরাসায় হস্তক্ষেপ করতে থাকে। এরকম বিবাদ-বিসংবাদের মধ্য দিয়েই রমজান এবং ঈদের ছুটি হয়ে যায়।

ঈদের পর মেয়েরা মাদরাসায় আসতে শুরু করলে দেখা যায় নবনির্মিত মসজিদ ভবনটির বেশ কিছু কামরায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনিক এমন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মাওলানা গাজি সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা প্রদান করে অবিলম্বে সকল আবদ্ধ কামরা খুলে দেয়ার দাবি জানান।

মাওলানা গাজির এই দাবির পক্ষে মেয়েরাও শীলিত পর্দার ভেতর রাস্তায় এসে প্রতিবাদ জানায়।

মাদরাসাটির উপর দিয়ে বহু ঝড় বয়ে গেছে। আলোচিত লাল মসজিদ ঘটনায় মাদরাসাটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সরকার নতুন প্লট দেয়ার আশ্বাস দিয়েও সেটা নিয়ে এসব চক্রান্ত মাদরাসার প্রতি সরকারের নেতিবাচক মনোভাবেরই প্রকাশ ঘটায়।

শুধু তাই নয়, প্রশাসন মাদরাসার আভ্যন্তরীণ গ্যাসের লাইনও বন্ধ করে দেয়। যাতে করে মাদরাসার ভেতরে কোনোরকম খাবার প্রস্তুত হতে না পারে। এবং তাদেরকে বাইরে থেকে খাবার নিয়ে যেতেও বাধা দেয়া হয়।

এই ঘটনার পরদিন সকালে স্থানীয় লোকেরা মাদরাসায় খাবার নিয়ে যেতে চাইলে প্রশাসন তাদেরকেও প্রবেশ করতে দেয় না।

এরপর জামিয়া হাফসার (মহিলা মাদরাসা) প্রিন্সিপাল উম্মে হাসান আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে মাদরাসা হাফসার অফিসিয়াল প্যাডে একটি সাহায্যনামা লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। সেখানে তাদের অবস্থার কথা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

পাকিস্তানে নানা কারণে বিতর্কিত ইমরান খানের সরকার এই ঘটনার সন্তোষজনক সমাধান দিতে না পারলে জনমনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা বিশ্লেষকদের।

আগের সংবাদমুরসিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করলেন পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আবদুল কাদির খান
পরবর্তি সংবাদমুরসির গ্রামের বাড়িতে মিশরীয় সেনাবাহিনীর অভিযান, অবরুদ্ধ গ্রামবাসী