আজিমপুর মসজিদে খাদেম হত্যার নেপথ্যে

ফাতেহ ডেস্ক

লালবাগের আজিমপুরে মসজিদের ভেতরে খাদেম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত রেষারেষি। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনার মূল হোতা সন্দেহভাজন সাইফুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে ঘটনার অন্যসব কারণ এবং তার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কী-না তা জানা যাবে। এ ঘটনায় আটক ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের চিকিৎসক সুরতহাল প্রতিবেদনে লিখেছেন, তার মাথাসহ বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বাম পায়ের রগ কাটা ছিল। অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৩।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, পলাতক মসজিদের খাদেম সাইফুলের সঙ্গে নিহত হানিফের টাকা লেনদেন এবং ব্যক্তিগত রেশারেশি ছিল। সেই সূত্র ধরে হানিফ খুন হয়ে থাকতে পারেন। যারা পুলিশের হেফাজতে আটক আছে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। সন্দেহভাজন সাইফুল গ্রেপ্তার হলে আর কে এ খুনের ঘটনায় জড়িত এবং কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লালবাগ থানার এক এসআই জানান, প্রায় ৭ বছর ধরে নিহত মসজিদের খাদেম হানিফ এবং পলাতক সাইফুল মসজিদের যাবতীয় কাজ দেখাশোনা করে আসছিলেন। মসজিদের মোট ৪ জন খাদেম এক রুমেই ঘুমাতেন। ৫ মাস আগে মসজিদের মুসুল্লীদের দেয়া ছোট দান বাক্সের টাকার হিসাব নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এছাড়াও কিছুদিন আগে তদের মধ্যে হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি নালিশী বিচারে সাইফুলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তখন থেকে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত রেশারেশি ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত আরও তিনজন খাদেম দাবি করেছে যে, ওই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিষয়ে তারা কিছু জানে না। বুধবার এশার নামাজের পর পলাতক সাইফুল আর রুমে ঘুমাতে যায়নি। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় পরিত্যক্ত রুমে হানিফকে সে হত্যা করে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে এশার নামাজের পর থেকে রাত ১২ টার মধ্যে। কারণ তারা হানিফকে এশার নামাজ পড়তে মসজিদে দেখেছেন। এশার নামাজের পর দুইজন রুমে ঘুমাতে যান। কিন্তু, বাকি দুইজন ঘুমাতে যাননি। অপর দুইজন তাদের খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তার মধ্যে একজন খাদেম মসজিদের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে বস্তাবন্দি হানিফের মরদেহ দেখতে পেলে পুলিশকে খবর দেন।

আরএইচ/

আগের সংবাদমাদরাসা নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষােভ ঝাড়লেন মমতা
পরবর্তি সংবাদ‘জয় শ্রী রাম’ সংস্কৃতি ইদানীংকালের আমদানি : অমর্ত্য সেন