
মুসান্না মেহবুব
ভারতের সদ্য বিগত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত পশ্চিম বাংলার এমপি ও কলকাতা সিনেমার অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে ভারতে। সম্প্রতি জৈন ধর্মের অনুসারী নিখিল জৈনকে নুসরতের বিয়ে করা, হিন্দুয়ানী রীতি অনুসরণ করে লোকসভায় শপথগ্রহণ—এই দুই টপিককে কেন্দ্র করেই মূলত বিতর্কের জন্ম।
ভারতের দেওবন্দ এলাকার একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি আসাদ ওয়াসেমি ইসলামি আইনশাস্ত্র মতে নুসরতের এ কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে ফতোয়া দিয়েছেন যে, নুসরতের বাহ্যিক আচার-আচরণ এবং ভিনধর্মের অনুসারীকে বিয়ে করা ইসলামের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একজন মুসলিম হিসেবে তাঁর এমন কর্মকাণ্ড ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করে না।
ভারতের আলেমদের মধ্যে যাঁরাই এ ইস্যুতে কথা বলেছেন, প্রত্যেকেই আসাদ ওয়াসেমির এ ফতোয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তবে আসাদ ওয়াসেমির এ ফতোয়াকে অনেক সংবাদমাধ্যম দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া হিসেবে উপস্থাপন করায় একটা বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে পড়েছে ইতিমধ্যে। পশ্চিমবঙ্গে এমন সংবাদ প্রচারের কারণে দারুল উলুম দেওবন্দ নিয়ে বিষোদগার করছেন অনেকে এবং কোনো কোনো মহল এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতে ফতোয়া নিষিদ্ধের দাবি তুলছেন।
আদতে দারুল উলুম দেওবন্দের ইফতা বিভাগ স্বপ্রনোদিত হয়ে কোনো ফতোয়া প্রদান করে না। কেউ যদি কোনো বিষয়ে শরয়ি দৃষ্টিকোণ জানতে চায়, তাঁকে কোনো ব্যক্তিবিশেষের নাম উল্লেখ ছাড়াই শরিয়তের দৃষ্টিকোণ বাতলে দিয়ে সে বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া হয়। নুসরত ইস্যুতে দারুল উলুম দেওবন্দের কাছে কেউ কোনো ফতোয়া দেয়নি, দেওবন্দও কৌশলগত কারণে এ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। ফতোয়া যেটা এসেছে, সেটা মাওলানা আসাদ ওয়াসেমির ব্যক্তিগত অভিমত।
কিন্তু আসাদ ওয়াসেমির এ ফতোয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। ফতোয়াভীতি ছড়ানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে ফতোয়ার ব্যাপারে আইনত কোনো বিধিনিষেধ নেই। কারণ, ভারতীয় আইনে ফতোয়ার দ্বারা কোনো আইন প্রয়োগ কিংবা কারও ওপর শাস্তি আবশ্যক হয়ে যায় না। ফতোয়া’র কার্যকারিতা কেবল ইসলামি আইনশাস্ত্র ঘেঁটে আলেমদের অভিমত প্রকাশ অবধিই সীমাবদ্ধ।
কিন্তু মুফতি আসাদ ওয়াসেমির ফতোয়াকে কেন্দ্র করে এমনভাবে সমালোচনা হচ্ছে, যেন এ ফতোয়ার দ্বারা নুসরতের ওপর আবশ্যিক কোনো শাস্তি আরোপিত হচ্ছে। এবং একে রংচং মাখিয়ে পশ্চিমবঙ্গের একশ্রেণির মিডিয়া সেভাবেই উপস্থাপন করছে।
