
মুসান্না মেহবুব
জাতীয় শিশুকিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিল্পী শামিম আহমাদের নারীঘটিত অসামাজিক দুটো স্থির চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হবার পর কলরবশ্রোতাদের বড় একটি অংশের অনাস্থা তৈরি হয়েছে সংগঠনটির প্রতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
গতকাল রোববার শিল্পী শামিম আহমাদের ওই দুটো স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার তৈরি করলে কলরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শামিমের এই কেলেংকারির দায়ে গত ৩১ মে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যেই তাকে কলরব থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সমালোচক ও সাধারণ শ্রেণির শ্রোতাদের অনেকেই অভিযোগ করছেন, এই অনৈতিকতার দায়ে শিল্পী শামিমকে কোনো ধরনের শাস্তির আওতায় না এনে এবং বহিস্কার না করে কেবল অব্যাহতি কেন দেওয়া হলো।
অনেকে আবার এমন প্রশ্নও তুলছেন, ইতিপূর্বে কলরবের অন্য দুয়েকজন শিল্পীর এমন অনৈতিকতা প্রকাশিত হবার পর তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল শামিমের বিরুদ্ধেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলরবের খ্যাতিমান শিল্পী আবু রায়হানের নামে বছর দুয়েক আগে এমন একটি নারী-কেলেংকারির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফোনকলের একটি অডিওক্লিপে দেখা যায় একটি মেয়ের সঙ্গে আবু রায়হান অসামাজিক ভাষায় কথা বলছেন। অডিওক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেই সময়ও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল কলরব ও আবু রায়হানকে নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছিল কলরবশিল্পীদের চরিত্র ও নৈতিকতার ওপরও।
কিন্তু শামিম আহমাদের ব্যাপারে কলরব একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হলেও সেই সময় আবু রায়হানের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছিল বলে জানা যায় না।
আবু রায়হানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি-না জানতে চাইলে কলরবের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের কাছে সেই অডিও ক্লিপের ব্যাপারটা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, আবু রায়হান দেশের খ্যাতিমান একজন সঙ্গীতশিল্পী, তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা এবং সাফল্যের প্রতি ‘ঈর্ষান্বিত’ হয়ে একটি মহল তাঁকে এবং কলরবকে বিতর্কিত করার কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। তারাই আবু রায়হানের কণ্ঠকে নকল করে পরিকল্পিতভাবে এই অডিওক্লিপটি ছড়িয়েছে।
শামিম আহমাদের চারিত্রিক স্খলন প্রমাণিত হবার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা কলরব থেকে তাকে বহিস্কার না করে সেরেফ অব্যাহতি কেন দেওয়া হলো জানতে চাইলে বদরুজ্জামান বলেন, শামিম একটি মাদরাসার ছাত্র। আবাসিকভাবে সে ওখানেই থাকে। কলরবে পার্টটাইম সে কাজ করত। তার কোনো অন্যায় বা অপরাধের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা কলরবের নাই। কলরবের ক্ষমতা যতটুকু, কলরব সেটা করেছে। অব্যাহতি আর বহিস্কারের মধ্যে শাব্দিক পার্থক্য ছাড়া তেমন কোনো তফাত তো নেই। আমরা বহিস্কারের বদলে অব্যাহতি ব্যবহার করে তার জন্য একটা সুযোগ রেখেছি। একজন মানুষ ভুল করলে তাকে শুধরানো দরকার। আমরা তাকে বলে দিয়েছি, তুমি যদি নিজের চরিত্রকে সংশোধন করতে পারো আর কোনো হক্কানি বুজুর্গ আলেম যদি পরবর্তীতে তোমার চরিত্রের ব্যাপারে সত্যায়ন করেন, তবে কলরবে তোমার ফেরার সুযোগ আছে।
এসব অনৈতিক ঘটনা প্রকাশিত হবার কারণে কলরবশিল্পীদের ব্যাপারে ধর্মীয় অঙ্গনের বড় একটি অংশের অনাস্থা আছে, আছে নারীঘটিত সন্দেহও, এটা আপনাদের অজানা নয় নিশ্চয়, তো এ অনাস্থা দূর করার ব্যাপারে আপনারা কিছু ভাবছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বদরুজ্জামান বলেন, ‘ভালো কাজ’ করলে সমালোচনা হবেই। এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে বা ভাবতে চাই না। তবে ‘বিচ্ছিন্ন’ একটা ঘটনার কারণে পুরো একটা সংগঠনের ওপর এমন বিরূপ ধারণা পোষণ করা ঠিক না।
বদরুজ্জামান বলেন, শিল্পীদের চারিত্রিক ও নৈতিক দিকটার ব্যাপারে কলরব খুবই কঠোর এবং সোচ্চার। কারও সামান্যতম কোনো স্খলন পরিলক্ষিত হলে নির্বাহী পরিষদ থেকে কঠিনভাবে তাকে শাসানো হয়। তারপরও সবার ব্যক্তিজীবন তো আর একটা সংগঠন সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। কলরবের যেকোনো সদস্য বা শিল্পীর ব্যাপারে কেউ যদি সামান্যতম স্খলন লক্ষ করেন এবং সেটা প্রমাণসহ আমাদের কাছে জানান, তবে সে যে-ই হোক, কার্যনির্বাহী পরিষদ তার ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত আছে।
