
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হয়ে লড়াইরত সংযুক্ত আরব আমিরাত। খবর ইয়েনি শাফাক।
সোমবার আমিরাত বলেছে, ইয়েমেনে সৈন্য কমিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে ‘মিলিটারি ফার্স্ট কৌশল’ থেকে বেরিয়ে সবার আগে শান্তি কৌশলের দিকে অগ্রসর হবে তারা।
পশ্চিমা বিশ্ব সমর্থিত সৌদি নেতৃত্বাধীন সুন্নি সামরিক জোটের নেতৃস্থানীয় সদস্য হিসেবে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এদিকে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের এ দেশটি ইতিমধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেন ও পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে কিছু সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দুবাই আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানায়, ‘আমাদের আলোচনা শেষ হয়েছে। সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে পুনরায় মোতায়েনের ব্যাপারে এক বছর ধরে আলোচনা চলছে। গত বছরের ডিসেম্বরে স্টকহোম চুক্তির পর সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক হামলার পর গত বছরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানায়, দেশটি মারাত্মক দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বর্তমানে ইয়েমেনের দুই কোটি ৪০ লাখ লোকের জন্য মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। গত বছর সেখানে কলেরা মহামারী দেখা দিলে ১০ লক্ষাধিক লোক এতে আক্রান্ত হন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো এক বিবৃতিতে বলেছে, এক কোটি ৪০ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। এর আগে কখনও এতটা জরুরি অবস্থা ছিল না।
২০১৫ সালে সৌদি জোটের আগ্রাসনের পর থেকে প্রায় দুই কোটি শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এসব শিশুর অধিকাংশই কেউ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, কেউ ভিক্ষা করছে। অসংখ্য স্থাপনা, হাসপাতাল, স্কুল ও কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
