দু’টি মাদরাসা আগামী পাঁচ বছর হাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষায় বসতে পারবে না

ফাতেহ ডেস্ক

ভ্রান্ত ও দেওবন্দি চিন্তাধারার বিরোধী আকিদা লালনকারীদের দাওরায়ে হাদীসের (তাকমীল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ায় দু’টি মাদরাসা আল হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ এ বোর্ড।

১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঢাকার মতিঝিলে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে উপস্থিত সংস্থাটির সদস্য মাওলানা মুসলেহুদ্দিন রাজু ।

শাস্তিপ্রাপ্ত মাদরাসা দুটি হলো- আল জামিয়াতুল উসমানিয়া দারুল উলুম, সাতাইশ, টঙ্গি মাদরাসা ও মজিদবাগ মাদরাসা।

বৈঠকে উপস্থিত মাওলানা মুসলেহুদ্দিন রাজু জানান, ভ্রান্ত ও দেওবন্দি চিন্তাধারার বিরোধী আকিদা পোষণকারী বাইরের লোকদের দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ায় সাতাইশ ও মজিদবাগ মাদরাসার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছর পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইয়াতুল উলইয়া। পাশাপাশি এ দু’টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার মারকাজ থাকলে, তা বাতিল করারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ওই বৈঠকে।

কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেছেন, এই অপরাধ তো অনেক মাদরাসা-ই করছে, এটা কি গুরুদন্ড হয়ে যাচ্ছে? সরকারের দিক থেকে কোন চাপ আছে কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দাওরায়ে হাদীসের ফল প্রকাশের পর জানা যায়, কওমি মাদরাসা ও দেওবন্দি চিন্তাধারার বিপরীতমুখী একটি সংগঠনের সভাপতি গাজীপুরের সাতাইশ মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে এ খবর ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়ে কওমি মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা সংস্থা আল আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হাইয়াতুল উলইয়া ওই মাদরাসার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় ঘোষণা দেয়। সবশেষ আজকের বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য হাইয়ার অধীনে তাদের পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 

আগের সংবাদপ্রসাদ খাইয়ে জোর করে মন্ত্রপাঠ করানো অন্যায় : হাইকোর্ট
পরবর্তি সংবাদ১০ লাখ হাজীকে ফ্রি সিম ও ইন্টারনেটসেবা দিচ্ছে সৌদি সরকার