
রাগিব রব্বানি
কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামের প্রায় ১৬টি স্কুলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে মুসলিম শিশুশিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ এবং তাদের মাধ্যমে মন্ত্রপাঠ করানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরে ইসকনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ করে আসছেন সচেতন ধর্মপ্রাণ জনতা ও আলেম সমাজ।
এ ঘটনার সূত্র ধরে ইসকনের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে একে নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়ে আসছেন তাঁরা। তাঁরা বলছেন, মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ মুসলমানদের মূল্যবোধে তীব্র আঘাত করেছে। হিন্দুত্ববাদী এ সংগঠনটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে সাধারণ মুসলমানদের উস্কে দেয়ার পায়তারা করছে।
ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক হিন্দুত্ববাদী এ সংগঠনটি বাংলাদেশে যেভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে উদ্বিগ্ন হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। নিকট অতীতের বেশ কয়েকটি ঘটনায় তাদের মারমুখো ও উগ্র রূপ দেখেছে এ দেশের জনগণ। তাই সংগঠনটির কর্মপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও অর্থায়নের উৎস খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ দিকে কৃষ্ণপ্রসাদ বিতরণের ঘটনার প্রেক্ষিতে ধর্মীয় সমাজের ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে ইসকনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করার নেতিবাচক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম ইসকন। গণমাধ্যমে পাঠানো এ বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে কৃষ্ণ প্রসাদ কেবল হিন্দু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে এবং তাদের দ্বারাই কেবল মন্ত্রপাঠ করানো হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের স্থানীয় মানুষজন বলছেন, ওইসব স্কুলের মুসলিম শিশুদেরকেও প্রসাদ খাওয়ানোর পাশাপাশি মন্ত্র পাঠ করানো হয়েছে।
ইসকন তাদের ওই বিবৃতিতে দুঃখপ্রকাশ করলেও, ধর্মপ্রাণ সচেতন মহল বলছেন, বিবৃতিতে তারা ধর্মীয় সমাজের অভিযোগকে অস্বীকার করে আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
ইসকনের প্রসাদ খাওয়ানোর এ ইস্যু নিয়ে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ধর্মীয় অঙ্গনে তুমুল সমালোচনা ও প্রতিবাদ হলেও জাতীয় ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোর বড় একটি অংশ এ ইস্যুকে এড়িয়ে যাচ্ছে।
পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা সম্প্রতি যে মিথ্যা অভিযোগ ও কুৎসা রটিয়েছেন বাংলাদেশ সম্পর্কে, গতকাল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হবার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিশ্চুপ ছিল জাতীয় ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলো। সন্ধ্যার পর কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম নিউজ করলেও অধিকাংশই এ সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন করা থেকে বিরত থেকেছে। এমনকি আজ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথম সারির বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম এখনও প্রিয়া সাহা বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রচার করেনি।
ধর্মপ্রাণ সচেতন মহল অভিযোগ করে বলছেন, আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোর চরিত্রই এমন, এরা মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো ইস্যুতে মুখ খুলতে চায় না। মুখ খুললেও মুসলমানদের স্বার্থকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে।
ইসকন এবং প্রিয়া সাহার মিথ্যাচারের ইস্যু সচেতন মহলের এ অভিযোগকে অনেকাংশে আরেক বার সত্য প্রমাণ করে দিলো।
