ভারতে মুসলিম নির্যাতন : ইসলামি দলগুলো কী করতে পারে

মুসান্না মেহবুব

ভারতে মুসলিম নির্যাতন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাস দুয়েক আগে টানা দ্বিতীয় বারের মতো বিজেপি ক্ষমতায় আরোহনের পর দেশটির নানা জায়গায় মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছেন। নির্যাতনের আতিশয্যে ইতিমধ্যে মারাও গেছেন কয়েকজন। মুসলিমদেরকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলানো, জয় শ্রীরাম বলার পরও নির্মম কায়দায় পেটানো, গো-মাংস ভক্ষণের অহেতুক অভিযোগ এনে মুসলমানদের ওপর হামলা, মারধোর—এসব অনেকটা নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির ভারতে।

তাছাড়া মুসলমানদের সঙ্গে ঘৃণা ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ, অধিকারের প্রশ্নে তাঁদেরকে বঞ্চিত করা, প্রশাসন কর্তৃক নিরাপত্তা দানে টালবাহানা, হিন্দু উগ্রবাদীদের পক্ষাবলম্বন করে উল্টো আরও নির্যাতিতদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ারও ব্যাপক ঘটনা ঘটছে ভারতজুড়ে।

নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশের সাধারণ শ্রেণির মুসলমান থেকে নিয়ে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ইসলামি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সময়ে সময়ে প্রতিবাদ করে আসছেন। রাজপথে বিক্ষোভ থেকে নিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতিদানের মাধ্যমে ভারতের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো।

ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু ধর্মীয় অধিকার রক্ষা ও মুসলিম জনগণের অধিকার প্রশ্নে কাজ করে, তাই প্রতিবেশী দেশের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে প্রতিবাদী ভূমিকা অবলম্বন তাদের দায়িত্ব ও দায়বোধের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু এ প্রতিবাদে কার্যত কোনো ফায়দা হয় না নির্যাতিতদের। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কি আর কিছু করার ক্ষমতা নেই? প্রশ্ন ওঠে স্বাভাবিকভাবেই।

বিশিষ্ট লেখক ও ইসলামি রাজনীতি-বিশ্লেষক রশীদ জামীলের সঙ্গে কথা হয়েছিল এ বিষয়ে। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভারতে এই যে মুসলিম নির্যাতন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের দেশের ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো এর প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে কি সক্ষম?

উত্তরে রশীদ জামীল বলেন, ‘কথাটিকে আমি মুসলিম নির্যাতন না বলে মজলুমের উপর জালিমের জুলুম বলতে চাই। ভারতসহ গোটা বিশ্বেই মুসলমানরা আজ মজলুম। এর দায় মূলত নিজেদেরই। মুসলমানরা ইসলামের ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়ে মডারেট হচ্ছে। যে কারণে আসমানী মদদের দরজাও আর খুলছে না। ইউনিফর্ম বলতে ইনসাইড আউটসাইড দুটোই মিন করছি।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর কিছুই করার ক্ষমতা নাই। যারা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজ দেশের মজলুমের পক্ষেই দাঁড়াতে পারে না, তাঁরা কীভাবে অন্যদেশের হয়ে দাঁড়াবে? একই সাথে এটাও সত্য যে, সমসাময়িক প্রেক্ষপটে এসব বিষয়ে একটু বেহিসেবি জজবার প্রদর্শন আত্মঘাতীও হতে পারে।’

আগের সংবাদব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদে অগ্নিসংযোগকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জেলা ইসলামী ঐক্যজোটের
পরবর্তি সংবাদডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কে ১০টি প্রয়োজনীয় তথ্য