
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের আসাম রাজ্যে আগামী ৩১ আগস্ট এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এর আগে আসামের এনআরসি প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছেন তিন কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৪ জন। গত বছরের ৩০ জুলাই প্রকাশিত চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় দেখা যায়, ৪০ লাখ সাত হাজার ৭০৭ জন আবেদনকারীর নাম বাদ পড়ে গেছে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর তালিকায় নাম সংযোজনের চূড়ান্ত সময়সীমা পর্যন্ত ৩১ লাখ আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ ৯ লাখ মানুষ এ জন্য আবেদনই করেননি। এ ছাড়া লক্ষাধিক মানুষের এনআরসি তালিকাভুক্তি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। ৩১ জুলাই চূড়ান্ত তালিকা মোতাবেক, প্রায় ১০ লাখ আসামবাসী নিশ্চিতভাবে নাগরিকত্ব হারাতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই ১০ লাখ মানুষ ‘অবৈধ বিদেশী অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।
এনআরসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘বিদেশী’ বলে ঘোষণার জন্য যাদেরকে টার্গেট করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই মুসলমান। আছেন বেশ কিছু বাঙালি হিন্দুও। ভারতের শাসক দল, চরম হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ঘোষিত নীতি হলো, যেকোনো দেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে গেলে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। সুতরাং আসামে বাঙালি হিন্দুরা এনআরসি থেকে বাদ পড়লেও তাদের খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। এই কার্যক্রমের মূল টার্গেট যে মুসলমানেরা, সেটা একেবারে স্পষ্ট।
এই এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বিদেশী খেদাও আন্দোলনের পরিণতি হিসেবে। আর সেই ‘বিদেশী’রা হলো তাদের ভাষায়, ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মুসলমানেরা।’ ওই আন্দোলনের একপর্যায়ে, মুসলমানদের গ্রাম ঘেরাও করে উগ্রবাদী হিন্দুরা পুলিশ ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে এক দিনেই ১০ হাজার মুসলমানকে কুপিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। আসামের নেলীর সেই ক্ষত কখনো শুকানোর নয়।
এখন নতুন করে ১৮-২০ লাখ মানুষকে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। এটি কি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়? অনেকের সন্দেহ আছে। এর কারণ, এর সাথে স্পষ্টতই বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে রাখা হয়েছে। তারা সব সময়ই বলছে, আসামের অবৈধ নাগরিকেরা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছেন। এখানেই বিষয়টি আর ভারতের ঘরোয়া হয়ে থাকেনি; হয়ে উঠেছে পুরোপুরি একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়; কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমনকি কোনো বক্তব্যও দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের এখনই সক্রিয় হওয়া দরকার। চোখ বুঁজে থাকলেই প্রলয় বন্ধ হয় না।
