
রাগিব রব্বানি
নানামাত্রিক সংকট ও সমস্যায় অস্থির মানুষের জীবন। জাগতিক ও জীবন-সংসারের ব্যস্ততায় নিজেকে নিয়ে ভাববার একটু ফুরসত যেন নেই কারও। নেই জমার খাতায় পরকালীন জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব। আধ্যাত্মিক সাধনা মূলত নিজেকে নিয়ে ভাববার ও পরকালীন হিসাবের খাতা উল্টেপাল্টে দেখার সুযোগ করে দেয়। জাগতিক ব্যস্ততা ও অস্থিরতার মধ্যেও আত্মায় এনে দেয় অন্যরকম এক প্রশান্তি। তাই জগত-সংসারের ব্যস্ততার পাশাপাশি দৈনন্দিন, সাপ্তাহিক, না পারলে মাসে অন্তত একবার স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আধ্যাত্মিক বা ইসলাহি মজলিসগুলোতে শামেল হওয়া উচিত। কারণ আত্মার খোরাক জোগানোর জন্য আধ্যাত্মিকতার বিকল্প জোগাড় করা মুশকিলই বটে।
ঢাকার স্থানে স্থানে রয়েছে মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধি ও ইসলাহের জন্য অসংখ্য খানকাহ। খানকাহগুলোর অধিকাংশই মাদরাসাকেন্দ্রিক। কোনো কোনো জায়গায় আবার খানকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মাদরাসা। এসব খানকায় সপ্তাহে বা মাসে একবার সাধারণ মানুষের জন্য আধ্যাত্মিক বা ইসলাহি মজলিসের আয়োজন করা হয়। খানকার বুজুর্গ ওলামায়ে কেরাম আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। উল্লেখযোগ্য এমন কয়েকটি খানকার ঠিকানা ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের পাঠকদের জন্য নিম্নে উপস্থাপিত হলো।
যাত্রাবাড়ি, দাওয়াতুল হকের ইসলাহি মজলিস
যাত্রাবাড়ি বড় মাদরাসায় আধ্যাত্মিক সংগঠন মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আয়োজনে প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার রাতব্যাপী ইসলাহি মজলিসের অনুষ্ঠান হয়। যাত্রাবাড়ির শায়খ ও দাওয়াতুল হকের আমির আল্লামা মাহমুদুল হাসান এতে ইসলাহি আলোচনা পেশ করেন। আলোচনা শেষ হলে রাতব্যাপী চলে বিশেষ আমল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দাওয়াতুল হকের সালেকিনরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া আল্লামা মাহমুদুল হাসানের আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হৃদয়স্পর্শী মোনাজাতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ অসংখ্য মানুষ।
মাসিক শবগুজারি ছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার বাদ এশা ছাত্রদের উদ্দেশে বিশেষ নসিহত করেন আল্লামা মাহমুদুল হাসান। আহলে ইলমরা সাপ্তাহিক এ মজলিসেও অংশগ্রহণ করতে পারেন।
ঢালকানগরের ইসলাহি মজলিস
ঢালনগরের পীর সাহেব মাওলানা আবদুল মতিন বিন হুসাইন পরিচালিত খানকাহ ইমদাদিয়া আশরাফিয়া আখতারিয়া’র আয়োজনেও নিয়মিত একাধিক ইসলাহি মজলিসের অনুষ্ঠান হয়।
প্রতি ইংরেজি মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বাইতুল হক ছাপড়া মসজিদে মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
ইংরেজি মাসের তৃতীয় শনিবার ডেমরায় অনুষ্ঠিত হয় অপর একটি মাসিক ইজতেমা।
এ ছাড়া প্রতি মঙ্গলবার বাদ আসর বাইতুল হক ছাপড়া মসজিদে ইসলাহি মজলিসের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখিত সবকয়টি মজলিসেই তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন মাওলানা আবদুল মতিন বিন হুসাইন। মাসিক ইজতেমায় ভক্ত-মুরিদানদের প্রদান করেন বিশেষ দীক্ষা।
অনলাইনে তাঁর এসব ইসলাহি মজলিস লাইভ সম্প্রচারিত হয়। লাইভ শুনতে ভিজিট করতে পারেন এই ঠিকানা : http://mixlr.com/khanqah-bd/
এ ছাড়া ঢালকানগরের অপর দুই বুজুর্গ, মাওলানা জাফর এবং মাওলানা আবদুল গাফফার সাহেবের ভিন্ন ভিন্ন খানকাহ রয়েছে ঢালকানগরে। এ খানকাহগুলোতেও নিয়মিত ইসলাহি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়।
মাদানিনগর মাদরাসায় পীর সাহেব সন্দ্বীপির ইসলাহি মজলিস
মাদানিনগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ফয়জুল্লাহ সন্দ্বীপির তত্ত্বাবধানে ইংরেজি মাসের প্রথম শুক্রবার মাদানিনগর মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয় ইসলাহি মজলিস। এখানে ইসলাহি তরবিয়ত প্রদান করেন মাওলানা ফয়জুল্লাহ সন্দ্বীপি নিজেই। এ ছাড়া মাসের তৃতীয় শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদে তিনি ইসলাহি আলোচনা করেন।
ফরিদাবাদ মাদরাসায় আল্লামা আবদুল কুদ্দুসের ইসলাহি মজলিস
ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা আবদুল কুদ্দুসের ইসলাহি মজলিস অনুষ্ঠিত হয় ইংরেজি মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার। মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এ ইসলাহি মজলিসে অংশগ্রহণ করেন হুজুরের শিষ্য, মুরিদ ও ভক্তবৃন্দ।
নকশবন্দি সিলসিলার খানকাহ
বিশ্বনন্দিত বুজুর্গ সুফি জুলফিকার আলি নকশবন্দীর বাংলাদেশি খলিফাদের উদ্যোগে সম্প্রতি ঢাকার কুড়িলে শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে গড়ে উঠেছে নকশবন্দি সিলসিলার নতুন খানকাহ। নিয়মিত ইসলাহি মজলিসের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত না হলেও আগামী ২৬ অক্টোবর শনিবার এখানে বৃহদাকারের একটি ইসলাহি মজলিস অনুষ্ঠিত হবে। এতে সুফি জুলফিকার নকশাবন্দির বাংলাদেশি ১০ খলিফা মাওলানা শাইখ মুহাম্মদ, মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতী শামসুদ্দীন জিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, পীর আবদুল হালিম, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা মুমতাযুল করীম (বাবা হুজুর), মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুফতি মুহাম্মদ হানিফ রাগেব এবং মুফতি ইমাদুদ্দীন পর্যায়ক্রমে ইসলাহি তরবিয়ত প্রদান করবেন। এ ছাড়া ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনসহ অন্যান্য বুজুর্গ ওলামায়ে কেরামও এতে অংশগ্রহণ করবেন।
সাভারে, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবির ইসলাহি মজলিস
সাভারে আলমনগর হাউজিং এস্টেট মসজিদ সংলগ্ন মারকাযুত তারবিয়ায় বিশিষ্ট ওয়ায়েজ মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবির তত্ত্বাবধানে ইংরেজি মাসের প্রথম শনিবার সকাল ১০টা থেকে জোহর পর্যন্ত ইসলাহি মজলিসের আয়োজন হয়। মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবি ছাড়াও এতে ইসলাহি আলোচনা করেন কাপাসিয়ার পীর শায়খ মিজানুর রহমানের খলিফাবৃন্দ।
ওলামায়ে কেরামসহ তরুণ ওয়ায়েজদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ এই ইসলাহি মজলিসে নিয়মিত শরিক হন।
