শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চায়িত হলো মহাকবি শেখ সাদী’র জীবনীভিত্তিক নাটক

ফাতেহ ডেস্ক

ইতিহাস, দর্শন ও সাহিত্যের এক অনন্য মিশেল পারস্যের মহাকবি শেখ সাদী রহ.। সাহিত্য থেকে ইসলামী দর্শন–সব কিছুতেই মুন্সীয়ানার ছাপ রেখেছিলেন জগদ্বিখ্যাত এই কবি, তাত্ত্বিক ও সুফি সাধক। তাঁর জীবন ও কর্মের কিয়দংশ নিয়ে নাটকের দল চন্দ্রকলা থিয়েটার মঞ্চায়ন করেছে ইতিহাসভিত্তিক একক নাটক ‘শেখ সাদী’।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার মঞ্চায়ন হয় এ নাটকটি। এটি ছিল দলটির ১৮তম প্রযোজনার উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর রচনায় নাটকটির নির্দেশনা ও নাম ভূমিকায় একক অভিনয় করেছেন এইচআর অনিক।

এক ঐতিহাসিক মুহূর্তকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে নাটকটির কাহিনী। দিল্লির যুবরাজ মুহম্মদ বুলবনে তার সময়কালে এক বিশ্ব কবি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে মুখ্য কবি হিসেবে আমন্ত্রণ পান শেখ সাদী।

শেখ সাদীর প্রিয় বন্ধু দিল্লির কবি আমীর খসরু আমন্ত্রণপত্র রচনা করেন এবং শেখ সাদীর আগমন নিশ্চিত করতে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে আহ্বান জানান। রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং বন্ধুর আহ্বানে উৎফুল্ল শেখ সাদী সম্মানিত ও আনন্দে আপ্লুত হলেও বার্ধক্যজনিত কারণে সে আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিল্লি আসতে পারেননি।

স্বশরীরে না যাওয়ার ক্ষেত্রে অপরাপর আরেকটি কারণ ছিল, শেখ সাদী চেয়েছিলেন তার অন্তিম বেলা কাটুক শিরাজী নগরীতে, যেখানে তার জন্ম-শৈশব-কৈশোর ও যৌবনের বেড়ে ওঠা।

ফলে শিরাজী ত্যাগ করে দিল্লির সে যাত্রায় শেখ সাদী না গেলেও যুবরাজ ও কবিবন্ধুর সম্মানার্থে তিনি নিজের রচিত গুলিস্তা, বুলিস্তাসহ অন্যান্য গ্রন্থ তুলে দেন শিরাজীতে অভ্যাগত দিল্লির রাষ্ট্রীয় অতিথিদের হাতে।

ইতিহাসের এই সত্যকে ঘিরেই নাটকটি শুরু হয়। মহাকবি শেখ সাদী তার সৃজন সাহিত্যের সম্ভার নিয়ে দাঁড়িয়ে শিরাজীর নিজ গৃহে, পারস্য থেকে দিল্লিগামী মুসাফিরদের আসার অপেক্ষায়।

দিল্লির যুবরাজ মুহম্মদ বুলবন, কবি বন্ধুবর আমীর খসরুর আমন্ত্রণে শেখ সাদী অপেক্ষমাণ তার রচিত সাহিত্যসমগ্র আমন্ত্রণের প্রতিদান হিসেবে মুসাফিরদের হাতে তুলে দেন।

ফজরের আজান শেষে ভোরের আলো ফোটার মাহেন্দ ক্ষণের মধ্যবর্তী অপেক্ষমাণ শেখ সাদীর সময়টুকু নিয়েই নাটক শেখ সাদী।

পোশাকের পকেটে খাবার ঢুকানোর বহুল প্রচলিত কাহিনীর পাশাপাশি পারস্যের কবি রুদকী, ফেরদৌসৗ, জালাল উদ্দীন রুমি, ওমর খৈয়ামসহ পূর্বসূরি ও সমসাময়িক সাহিত্যিকদের সমান্তরাল পথচলা, যাপিত জীবনকে তুলে ধরা এবং নিজ সাহিত্য সৃজনের প্রেক্ষাপটকে মনোজগতে ফিরে দেখার এবং অপেক্ষার অবসানে শেখ সাদীর আত্ম উপলব্ধির নাটক শেখ সাদী। ‘শেখ সাদী’র প্রযোজনা সহযোগী হিসেবে রয়েছে ঢাকার ইরানিয়ান কালচারাল সেন্টার।

আগের সংবাদস্ত্রীকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিতে গিয়ে সড়ক-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন স্বামী
পরবর্তি সংবাদজুমা পড়িয়ে কামরায় ফিরে নিজের শিশুসন্তানসহ তিনজনের লাশ পেলেন মসজিদের ইমাম