বিধিনিষেধে নামকাওয়াস্তে শিথিলতা এলেও কাশ্মীরের জনজীবন এখনও স্থবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের জবর দখলে থাকা কাশ্মীরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিধিনিষেধে খানিকটা শিথিলতা এলেও এখনও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে গোটা উপত্যকা। টানা ২৯ দিন ধরে স্থবির সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা।

৯২টি থানা এলাকা থেকে নিষেধাজ্ঞা ওঠানো, ২৯টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু করা এবং ৪ হাজার স্কুল খুলে দেওয়ার কথা জানানো হলেও উপত্যকার মানুষজন এখনও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে পারেনি। সেখানকার সড়কে ভারতীয় মিলিটারি ছাড়া স্থানীয় লোকজন তেমন কারও দেখা মিলছে না। চলাচল শুরু হয়নি সরকারি পরিবহনও। স্কুল-কলেজ চালু হলেও কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠাতে ভরসা পাচ্ছেন না অভিভাবকরা। জনবহুল এলাকায় কিছু বিক্রেতা পসরা নিয়ে বসলেও অধিকাংশ বাজার বন্ধ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেয়ার পরে ২৯ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি ভারতের ভূ-স্বর্গ। কতদিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে? কতদিন পরে মোবাইল-ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু হবে? প্রশাসনের কাছে এসবের কোনো উত্তর নেই। সেখানকার রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা এখনও হয় গৃহবন্দি নয়ত কারাগারেই রাত কাটাচ্ছেন।

দুইদিন আগে সরকারি মুখপাত্র রোহিত কানসাল বলেছিলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অনেক কমেছে। মানুষজন স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেছেন। রাজ্যে ৯৩ শতাংশ এলাকায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। রোহিত কনসালের দাবি, দৈনিক ৩০০ ট্রাক ফল রাজ্যের বাইরে দেশের বিভিন্ন অংশে যাচ্ছে। গত ২০/২৫ দিনে দেড় লাখ টন আপেল রফতানি হয়েছে। বিগত ২৯ দিনে আড়াই লাখ রোগী হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আসেন। এসময় ২ হাজার বড় সার্জারি বা অপারেশন হয়েছে। এসব হাসপাতালে গর্ভবতী নারীরা ২ হাজার শিশুর জন্ম দিয়েছেন।

তবে এই ইস্যুতে কাশ্মীর সীমান্তে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি গুলি ছুঁড়ছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

সূত্র : ঢাকা টাইমস

আগের সংবাদবিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত
পরবর্তি সংবাদপশ্চিমবঙ্গে এনআরসি তালিকা করতে দেবে না তৃণমূল কংগ্রেস