ইমাম খুনের জেরে অর্ধশতাধিক ইমাম-মুয়াজ্জিনকে দেশে ফেরত পাঠালো বাহরাইন

বাহরাইনি ইমাম আবদুল জলিল

ফাতেহ ডেস্ক

বাহরাইনের বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োজিত বাংলাদেশীদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছর বাংলাদেশী এক মুয়াজ্জিনের হাতে বাহরাইনের এক ইমাম নৃসংশভাবে খুনের ঘটনার জেরেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এখনই বাহরাইন সরকারের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা শুরু করতে না পারলে দেশটিতে পরিবার নিয়ে কর্মরত আরো দুই শতাধিক ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে শিগগিরই ফেরত পাঠানো হতে পারে।

গতকাল শনিবার বাহরাইনে বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক নোমান তৌহিদ বলেন, বাহরাইনের বিভিন্ন মসজিদে ২৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী ইমাম ও মুয়াজ্জিন কর্মরত রয়েছেন। তারা ১৯৮০ সাল থেকেই অত্যন্ত সুনামের সাথে দেশটিতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যার কারণে বাহরাইন সরকারও তাদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে। কিন্তু ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট হঠাৎ একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। তিনি বলেন, একটি মসজিদে (এলাকার নাম জানাতে পারেননি) কর্মরত বাহরাইনি ইমাম আবদুল জলিলকে একই মসজিদের বাংলাদেশী মুয়াজ্জিন কামাল উদ্দিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ তিন টুকরো করে ফেলে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে সেটি না জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পরই পুলিশ মুয়াজ্জিন কামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করে। ২৭ জুলাই কামাল উদ্দিনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা হয় বলেও জানান তিনি।

বাহরাইনে বাংলাদেশী ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সংগঠন ‘ওয়াকাফ’ মনে করছে, গত বছর মসজিদের ভেতরে বাহরাইনি ইমাম আবদুল জলিলকে খুনের ঘটনায় দেশটির সরকার এমন আচরণ করছে।

আগের সংবাদযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী গবেষককে গুলি করে হত্যা
পরবর্তি সংবাদকুর্দিদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার ক্ষেত্রে সীমা ছাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন : এরদোগান