
ফাতেহ ডেস্ক
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ২০ দিন পর আরেকটি নতুন ভিডিও পাওয়া গেছে। ভিডিওটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভিতে ধারণ বলে দাবি করেন মিন্নির বাবা।
এ প্রসঙ্গে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, হাসপাতালের সামনের এই ভিডিও আমি দুইদিন আগে পেয়েছি। কার কাছে পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি নামটি গোপন রাখতে চাইছেন। মিন্নির বাবা বলেন, সোমবার সকালে ওই ভিডিওটা রুহান নামের একজন সংবাদকর্মীর কাছে দিয়েছি। আমি আগেও বলেছি যে, আমার মেয়ে তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য সেদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।
১৫ মিনিটের নতুন ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার দিন ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে মিন্নি একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রিফাতকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে যান। সেখানে দাঁড়ানো এক যুবক রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। রিফাতের অবস্থা দেখে তিনি হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে আসেন। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে অচেতন রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়।
এরপর মিন্নি হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কল দিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি হাসপাতালের ভেতরে চলে যান। এর কিছু সময় পর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও চাচা আবু সালেহ হাসপাতালে ছুটে আসেন। ওই দিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। এ সময় সেখানে রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন ও তার কয়েকজন বন্ধু হাসপাতালের সামনে আসেন। জন বেশ কিছু সময় ফোনে কথা বলেন।
১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে অপেক্ষমাণ ওই অ্যাম্বুলেন্সে রিফাতকে তোলা হয়। ১০টা ৪৯ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে বরিশালের উদ্দেশ্য ত্যাগ করে অ্যাম্বুলেন্সটি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মিন্নি রিকশায় করে রিফাতকে হাসপাতালে নিলেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়না। রিফাতের বাবার দাবি, এটা মিন্নির নাটক।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ও বরগুনা জেলা পুলিশের পৃথক দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে এই ভিডিও কোন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি ওই সূত্র।
আপনার মেয়ে কি সেদিন রিফাতের সঙ্গে বরিশাল গিয়েছিল। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার মেয়েকে বরিশাল নেয়া হয়নি। আমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় মিন্নি রিফাতকে রক্ষার জন্য সেদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কর্মকর্তার তদন্তে কি আছে সেটা আমি এখনো দেখিনি। কারণ, আদালতে দেয়া পুলিশের অভিযোগ পত্রের কপি এখনও পাইনি। কপি পেলে বিস্তারিত জানতে পারব।
নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল বলেন, আমার ছেলে নয়ন বন্ডদের হাতে জখম হয়ে একাই একটি রিকশা নিয়ে সেদিন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যায়। মিন্নি পরে একা হাসপাতালের দিক যায়। মনে হয় পথিমধ্যে মিন্নি আমার ছেলের রিকশায় ওঠে। তবে ভিডিওটি আমিও দেখেছি। মিন্নি আমার ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলো। কিন্তু মিন্নি বরিশাল গেল না কেন। এমন কি আমার ছেলে নিহত হবার পরও মিন্নি আমাদের বাড়িতে যায়নি। মিন্নি যে নাটক করেছে সেটা দেশবাসী সবাই দেখেছেন। আমি এখনও বলি আমার ছেলের হত্যার পেছনে মিন্নির ইন্ধন ছিল। মিন্নির কারণেই আমার ছেলে নিহত হয়েছে।
রিফাত হত্যার নতুন ভিডিও, রক্তাক্ত রিফাতকে একাই হাসপাতালে নিয়ে যায় মিন্নি। এরপর যা ঘটে (ভিডিও)জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি ও বরগুনা জেলা পুলিশের একটি সিসি টিভি ক্যামেরা আছে। তবে এই ভিডিওটি কোনো ক্যামেরায় ধারণ করা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, হাসপাতালের সামনের এই ভিডিওটি আমি সংগ্রহ করেছি। মিন্নি যে রিফাত শরীফকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তা কলেজের সামনের ভিডিও এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভিডিওতে সুষ্পষ্টভাবে দেখা গেছে। আমার মেয়ে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই কলেজের সামনের আরেকটি ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের সামনের এই ভিডিওটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়ছে। এরকম আরো একটি ভিডিও আমার সন্ধানে আছে। আমি সেই ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।#Rifat #Minni #Bond007
Gepostet von See unseen 360 degree am Sonntag, 15. September 2019
