
ফাতেহ ডেস্ক
গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনতে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত হয় প্যারিস জলবায়ু চুক্তি। কিন্তু চুক্তিতে সই করা বিশ্বের প্রধান প্রধান দূষণকারী দেশ তাদের কতটুকু প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে তার বর্ণনা তুলে ধরেছে এএফপি।
চীন : চীন ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের লক্ষ্য পূরণ বা তার লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অজীবাশ্ম জ্বালানি (নবায়নযোগ্য এবং পারমাণবিক) থেকে আসা জ্বালানির জন্য ২০ শতাংশ লক্ষ্য স্থির করেছে বেইজিং। তবে এই লক্ষ্য পূরণে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে কার্বন নিঃসরণকারী শীর্ষ এ দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র : ২০০৫ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের মাত্রা ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছেন (যদিও দেশটি ২০২০ সাল পর্যন্ত আংশিক চুক্তিতে আছে)। ওবামার নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে কয়লাভিত্তিক জ্বালানি, অটোমোবাইল দূষণসহ অনেক কিছু বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন : ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশন ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, এ লক্ষ্যটি অতিক্রম করবে। তবে সদস্য দেশগুলোর আরও উচ্চাকাক্সক্ষী লক্ষ্য হল, ২০৫০ সালের মধ্যে নির্গমন মাত্রা শূন্যের ঘরে নামিয়ে আনা। সদস্য দেশগুলো এখনও ঐকমত্যে পৌঁছাচ্ছে এবং আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।
ভুটান ও সুরিনাম : জুনে ব্রিটেনের এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গবেষণা অনুসারে, ছোট দুটি রাষ্ট্র ভুটান ও সুরিনাম কার্বন নিরপেক্ষ দেশ। অধিকাংশই ২০৫০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নরওয়ে ও উরুগুয়ে : প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুসারে এ প্রতিশ্রুতি পূরণে ২০৩০ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে।
সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের ক্যালিফোর্নিয়া : ২০৪৫ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে।
ফিজি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য : ২০৫০ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত হয় প্যারিস জলবায়ু চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো হলো- ১. বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম করা। ২. গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা। ৩. প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা। ৪. জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।
