বোরকার ওপর রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যেসব দেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

নিরাপত্তার অজুহাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলিম নারীদের বাইরে বেরোবার পোশাক বোরকাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আসুন জেনে নিই কোন কোন দেশে মুসলিম-বিদ্বেষী এ আইনটি বলবৎ আছে।

ফ্রান্স : ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ; যেখানে বোরকা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্রান্সে ৫০ লাখ মুসলমানের বাস। ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল এই আইন কার্যকর হয়৷ বোরকা বা নেকাব পরলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

বেলজিয়াম : ২০১১ সালের জুলাইয়ে বেলজিয়ামেও নেকাব নিষিদ্ধ হয়৷ অর্থাৎ কোনো নারী তার পুরো মুখ কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারবে না৷

স্পেন : পুরো স্পেনে নয়, বার্সেলোনা শহর কর্তৃপক্ষ সেখানে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে৷

সুইজারল্যান্ড : সুইজারল্যান্ডে কিছু অঞ্চলেও জনসমক্ষে নিকাব পরা নিষিদ্ধ।

ব্রিটেন : ব্রিটেনে প্রচুর মুসলিমের বাস। তাই সেখানে কোনো ইসলামী পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই৷ তবে স্কুলগুলোতে নির্দিষ্ট পোশাক পরতে হয়। ২০০৭ সালে বেশ কয়েকটি মামলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক করে, স্কুলে কেউ বোরকা বা নেকাব পরতে পারবে না।

সুইজারল্যান্ড : ২০১৩ সালে সুইজারল্যান্ডের ইতালীয় ভাষাভাষীদের এলাকা টিসিনোতে বোরকা নিষিদ্ধের ওপর ভোট হয়। নিষিদ্ধ করার পক্ষে পড়ে ৬৫ শতাংশ ভোট। এর পর ২৬টি শহরে বোরকা নিষিদ্ধ হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে লুগানো, লোকারনো, মাগাদিনোসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বোরকা নিষিদ্ধ হয়। কেউ জনসমক্ষে বোরকা পরলে ৯ হাজার ২০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে তার।

ইতালি : ইতালির বেশ কয়েকটি শহরে নেকাব নিষিদ্ধ। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নোভারা কর্তৃপক্ষ সেখানে আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে। ‘৭০-এর দশকেই মুখ ঢেকে রাখা সব ধরনের ইসলামিক পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইতালি।

অস্ট্রিয়া : দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকার প্রকাশ্য স্থানে পুরো মুখ ঢাকা নেকাব নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতে নেকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে একমত হয়েছে সরকারের শরিক দলগুলোও। এ ছাড়া যারা সরকারি চাকরি করেন, তাদের মাথায় স্কার্ফ, হিজাব কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বিবেচনা করছে সরকার৷

জার্মানি : জার্মানির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের মধ্যে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। সিডিইউ দলের একাধিক রাজনীতিক স্কুল, সরকারি অফিস, আদালতকক্ষ, গাড়ি চালানোর সময় বোরকা ও গোটা মুখ ঢাকা বা নেকাব পরা নিষিদ্ধ করতে চান।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জার্মানও প্রকাশ্যে বোরকাধারী মহিলাদের দেখতে নারাজ। এমনকি সম্প্রতি চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলও নেকাব নিষিদ্ধ করার পক্ষে সায় দিয়েছেন৷

সূত্র : ডয়েচেভেলে

আগের সংবাদআফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর ভুল হামলায় প্রাণ গেল ৩০ জন নিরীহ কৃষকের
পরবর্তি সংবাদযুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ওব্রায়েন