কাশ্মীরে গণকবর : হিউম্যান রাইটসের রিপোর্ট পর্যালোচনা

রাকিবুল হাসান

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড জাস্টিস (এইচআরএএস) ভারতের জবর দখলে থাকা কাশ্মীরে পাওয়া গণকবরের ওপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। ওই রিপোর্টে কাশ্মীরের ১০টি জেলা থেকে তিনটি জেলায় পাওয়া গণকবরের হিসাব তুলে ধরা হয়েছিল। রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তিনটি জেলা থেকে ২ হাজার সাতশটি অজ্ঞাত ও চিহ্নযুক্ত গণকবর পেয়েছে। এই কবরগুলোতে মৃতদেহ পাওয়া গেছে ২ হাজার ৯০০টি। ২৭০০ কবরের মধ্যে ২ হাজার ৩৭৩টি কবর কার, তা জানা নেই। ১৫৪টি কবরে দুটি করে মৃতদেহ, ২৩টি কবরে দুটির বেশি করে মৃতদেহ। দুইয়ের বেশি মানে ৩ থেকে ১৭ পর্যন্ত। অর্থাৎ কোনো কোনো কবরে ১৭টি মৃতদেহও পাওয়া গেছে।

শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই রিপোর্ট তুলে ধরে আরও গভীর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল এই মানবাধিকার সংগঠন। রিপোর্টের কপি তৎকালীন মুখমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং ভারত সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। রিপোর্টের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার জন্য ৩২টি সুপারিশও পেশ করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে রিপোর্টের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া সেন্টার ফর ইন্টিগ্রাল স্টাডিজের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নৃতত্ত্বের অধ্যাপক এবং আইপিটিকের আহ্বায়ক ডা. চ্যাটার্জি।

ডা. চ্যাটার্জি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধ অথবা গণহত্যার ফলেই জন্ম নেয় এই গণকবর। কিন্তু গণকবর দেয়ার উদ্দেশ্য যদি হয় অপরাধ লুকোনো, তাহলে এর উত্তম চিত্র হবে বান্দিপোড়া, বারামুল্লা এবং কুপওয়ার গণকবরগুলো। গণহত্যার পর পুলিশসহ সামরিক এবং আধাসামরিক বাহিনী গোপনে নিজেদের তত্ত্বাবধানে এই গণকবর তৈরি করে। সেইসঙ্গে নামহীন কবরগুলোতে দাফন করা মৃতদের ‘বিদেশি জঙ্গি’ বলে চালিয়ে দিত সশস্ত্র বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ।

ডা. চ্যাটার্জি বলেন, কাশ্মীরে ভারতীয় সুরক্ষা বাহিনী কর্তৃক ‘বিদেশি জঙ্গি’ বলে অভিযুক্ত ৫০টি কবর পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৯ জন মুসলিম, ৪ জন হিন্দু এবং ৭ জনের কোনো ধর্ম নির্ধারণ করা যায়নি। এই গেল মাত্র তিনটি জেলার হিসাব। যদি ১০টি জেলায় তদন্ত চালানো হয়, এমন আট হাজার গণকবর বেরিয়ে আসবে। ১৯৮৯ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সহিংসতা ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করেছে ৭০ হাজারেরও অধিক কাশ্মীরি।

ডা. চ্যাটার্জি আরও বলেছিলেন, জাতিসংঘ কাশ্মীরে সামরিকীকরণের এই নৃশংস পরিণতি দেখেও চুপ। কিন্তু হিউম্যান রাইটস বিশ্বকে জানাতে চায়। জানতে চায়—কিভাবে এবং কেন তৈরি হয়েছে এত গণকবর। যারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, গণকবর থেকে পাওয়া প্রমাণ তাদের বিরুদ্ধে এভিডেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

কাশ্মীরে এরপর আরও কত গোপন গণহত্যা ঘটে গেছে। হয়তো তৈরি হয়েছে আরও কত গণকবর, অচিহ্নিত। কিন্তু জাতিসংঘ যেখানে হাত বাড়ায় না, সেখানে হিউম্যান রাইটসেরও শক্তি কতটুকু?

দ্য হিন্দু অবলম্বনে

আগের সংবাদজমজমের পানির বিশুদ্ধতা প্রমাণে জাপানের বিজ্ঞানী মাসারু ইমোতো
পরবর্তি সংবাদকুরতুবা মসজিদ : নামাজের বদলে যেখানে হয় এখন যিশুর প্রার্থনা