সিরিয়ার কুর্দিপ্রভাবিত অঞ্চলে যে কারণে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে তুরস্ক

সরওয়ার আলম

সামরিক শক্তির দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ তুরস্ক গত বুধবার সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বহু প্রতীক্ষিত সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সরকার এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তিনটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসছে।

প্রথমত, তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত ধরে ৩০ কিলোমিটার প্রশস্থ এবং প্রায় কয়েকশো কিলোমিটার লম্বা একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করা, যেখানে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় শরণার্থী ফেরত পাঠাতে পারবে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে তুরস্ক প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।

দ্বিতীয়ত, তুর্কি সীমান্ত ধরে সিরিয়ার মধ্যে কোনো কুর্দি রাষ্ট্র বা স্বায়ত্ব শাসিত কোনো অঞ্চলের সৃষ্টিতে বাধা দেয়া। সিরিয়াতে তুরস্ক ওয়াইপিজি নামে যে সশস্ত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করছে তুর্কিতেও আছে তাদের অসংখ সশস্ত্র সদস্য। তুর্কিতে তারা পিকেকে নাম পরিচিত। তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর কাছে এই পিকেকে গ্রুপটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত অনেক বছর ধরে। পিকেকে সন্ত্রাসী বাহিনীটি প্রায় ৪০ বছর ধরে তুর্কি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে আসছে, যার ফলে প্রায় ৪০ হাজার লোকের প্রাণ হারাতে হয়েছে।

পিকেকে এবং ওয়াইপিজি একই জায়গা থেকে পরিচালিত হয়। ইরাকের কান্দিল নামক পর্বতের দুর্গম এলাকায় এর সদর দপ্তর। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নেতা আব্দুল্লাহ ওজালানকে ১৯৯৯ সালে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি তুরস্কের একটি জেলে আছেন।

তুরস্কের ভয় হচ্ছে পিকেকে বা ওয়াইপিজি যদি সিরিয়াতে কোনো অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা পায় তা হবে তুরস্কের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তখন এই সংগঠনটি খুব সহজেই তুরস্কের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের একটি বড় অংশ তাদের দখলে নেবে।

সুতরাং তুরস্ক এ ধরনের একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ কিছুতেই মেনে নেবে না। আর এ ধরনের কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করতে চাচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইসরাইল এবং কিছু আরব দেশ অনেক বছর ধরেই সিরিয়ার মধ্যে তুরস্কের সীমান্ত ঘেঁষে একটি কুর্দি রাষ্ট্র গঠনের পাঁয়তারা করছে।

তৃতীয়ত, তুরস্ক সিরিয়াতে নিজের ভিত আরো শক্তিশালী করতে চায়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরুতে আমেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্ব যে অবস্থানে ছিল আস্তে আস্তে তারা সেখান থেকে সরে আসছে আর তাদের প্রভাবও সীমিত হয়ে পড়ছে। সিরিয়াতে এখন রাশিয়া, ইরান এবং তুরস্ক মূল খেলোয়াড়ের ভূমিকায়। ভবিষ্যতে সিরিয়া কোনো সমঝোতায় আসতে হলে এই তিন দেশের সমর্থন ছাড়া সম্ভব হবে না। তাই এখানে যে যত শক্তিশালী সে আলোচনার টেবিলে তার দাবির জোর বেশি খাটাতে পারবে।

লেখক : আনাদোলু এজেন্সির এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান
উৎস : যুগান্তর

আগের সংবাদমারকাযুল লুগা’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগে দেশের ২৫ জেলায় আজ ‘ইয়াওমুল লুগাতিল আরাবিয়াহ’ পালিত
পরবর্তি সংবাদদ্রুত সময়ের মধ্যে আবরার হত্যার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী