
জুবাইর আহমদ আশরাফ :
সম্ভবত উনিশ শ ছিয়াশি সন। ঢাকার লালবাগ জামেয়া থেকে মালিবাগ জামিয়ায় ভর্তি হওয়ার জন্য যাই। প্রথমে দেখা করি, সে সময়কার মালিবাগ জামিয়ার সদর মুদাররিস হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসিমী দামাত বারাকাতুহুমের সঙ্গে। তিনি সে সময়ের মিশকাত জামাতের ছাত্র মাওলানা আবদুল ওয়াহেদ সাহেবের মাধ্যমে আমার ভর্তি ফরম পূরণ করান। ভর্তি পরীক্ষা দেই মাওলানা জাহাঙ্গীর মুহাম্মদ ইয়াহইয়া সাহেবের কাছে। মুহতামিম সাহেব হুজুরের লিখিত অনুমোদন হতে দুপুর বারোটা বেজে যায়।
এরপর যে উস্তাযের কাছে ফরম জমা দিতে হয় তিনি অফিস থেকে নিজ রুমে চলে গেছেন। ভর্তির কার্যক্রম আজকের মত বন্ধ। মালিবাগ জামিয়ার সবাই আমার অপরিচিত। একজন সুন্দর সুদর্শন উস্তায আমার হাত থেকে ফরম নিয়ে বলেন, আমার সঙ্গে চলুন। আমি তাঁর পেছনে পেছনে চলতে থাকি। তিনি সেই উস্তাযের রুমে গিয়ে মুখে মুচকি হাসি মেখে সবিনয়ে তাঁকে বলেন, এ ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী। সদর সাহেব হুজুরের উস্তাযের ছেলে। যেহেতু সদর সাহেব হুজুর ও মুহতামিম সাহেব হুজুরের লিখিত অনুমোদন হয়ে গেছে, তাই এ ছেলেটিকে যদি এখনই ভর্তি করিয়ে নিতেন ভাল হত। সে উস্তায ধীরে ধীরে অফিসে আসেন। তাঁকে দেখে আরও কয়েকজন ছাত্র অফিসে আসতে থাকে। তিনি সকলকে বলেন, আজকে সময় শেষ। আগামীকাল সকালে আসবেন। শুধু এ হুজুরের সুপারিশে একজনকে নেওয়া হবে। ধোপদুরস্ত ও পরিপাটি পোশাক পরা এ সুদর্শন উস্তায হলেন, উস্তাযে মুহতারাম আল্লামা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া রহ.।
তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দিনের পরিচয় হয় একজন বিনয়ী, পরোপকারী, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মহানুভব উস্তাযরূপে। আমি সে বছর শরহে বেকায়া জামাতে ভর্তি হই। ভর্তির কিছুদিন পর দ্বিতীয় তলায় মসজিদের বারান্দা থেকে বের হওয়া সময় তাঁর মুখোমুখি হই। তিনি সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠছেন। আমি তাঁকে সালাম দেই। তিনি হেদায়াতুন্নাহু জামাতের খলীল নামক এক ছেলেকে বলেন, আজকে আসরের পর এ মাওলানাকে নিয়ে আমার মসজিদে আসবে। উল্লেখ্য, তিনি অনেক ছাত্রকেই মাওলানা বলে সম্বোধন করতেন।
খলীল সে দিন রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিল। অনেক ঘুরে শহীদবাগ মসজিদে আসে। হুজুর প্রথমে আমাদের পুরি ও চা খাইয়েছিলেন। এরপর তিনি নানা বিষয়ে গল্প করেন। সবশেষে বলেন, জগতের এক কঠিন সময়ে আপনারা মাদরাসায় পড়তে এসেছেন। আগামী পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যদি আপনারা নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে না পারেন তবে গোটা জাতি কঠিন সঙ্কটে পড়বে।
মুহতারাম হযরত মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ছিলেন ভাবুক, চিন্তাশীল, সমাজ সচেতন ও ছাত্রদের যোগ্য করে গড়ে তোলার ব্যাপারে সদা নিবেদিতপ্রাণ। কোন মেধাবী ছাত্র পেলে তার মেধা কিভাবে কাজে লাগানো যায় তিনি সব সময় তা ভাবতেন। তিনি একদিন বলেন, আপনারা তো বুঝতে পারছেন না, গোটা সমাজ চতুর্দিক থেকে আপনাদের বেষ্টন করে আপনাদের অঙ্গন সঙ্কীর্ণ করে ফেলছে। যোগ্যতার মাধ্যমে আপনাদের এ অচলায়তন অবস্থা ভাঙতে হবে। তাঁর চব্বিশ ঘণ্টার সাধনা ছিল তাঁর ছাত্ররা যেন লেখাপড়ায় ও জ্ঞানে-গুণে বড় হয়, সমাজে সগৌরবে চলতে পারে, সর্বোপরি যুগের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়। মরহুম কবি ফররুখ আহমদের ভাষায়,
‘নিজেকে আজ জয় করে নিতে চালাও সাহসী কুচকাওয়াজ!
মনের সকল দিগন্তে করো সমর সাজ!
মাটির আকাশে, মনের আকাশে গর্জে বাজ।’
একদিন তিনি উপদেশচ্ছলে বলেন, আপনারা হাঁটার সময় হেলেদুলে আনমনে এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে আবার কখনো অন্যমনস্ক হয়ে চলেন। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ হাঁটতেন না। হাদীস শরীফে রয়েছে:
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ.
হযরত আলী রা. বর্ণনা করেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটার সময় সামনের দিকে কিছুটা ঝুকে হাঁটতেন, যেন তিনি উপর থেকে নিচে নামছেন।’ (শামায়েলুত তিরমিযী:১২০)
দেখুন উপর থেকে নিচে নামার সময় সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হয়। অন্যমনস্ক হয়ে পা ফেলা যায় না। বরং পা ও যে জায়গায় পা ফেলা হয়, সেই জায়গার দিকে সজাগ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হয়। তাঁর হাঁটার পদ্ধতির মধ্যেই একজন মর্দে মুজাহিদের প্রতিচ্ছবি বিকশিত হত। আপনারাও চালচলনে মরদে মুজাহিদের পদ্ধতি অনুশীলন করুন। একদিন তিনি দুঃখ করে বলেন, জাগতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিভাবান ছেলেদের সবাই সহযোগিতা করে। সবাই চেষ্টা করে, তার সেই প্রতিভার কিভাবে বিকাশ ঘটানো যায়। আর আমাদের পরিবেশে প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতা তো করা হয়ই না, বরং তাকে কিভাবে চাপা দেয়া যাবে, সবাই এ ফিকিরে থাকে।
সে সময় মালিবাগ জামিয়ায় আরবী বাংলা দেয়াল পত্রিকা, বক্তৃতা প্রশিক্ষণমূলক সাপ্তাহিক জলসা ও আসরের পর সাহিত্য মজলিস হত। এ সব কার্যক্রমের মধ্যমণি ছিলেন সবার প্রাণপ্রিয় উস্তায আবুল ফাতাহ রহ.। তিনি ছিলেন সদা হাস্যময়, সু-রসিক ও সকল ছাত্রের একান্ত আপনজন। তাঁকে কখনো রাগ করে বকাঝকা করতে দেখিনি। সব সময় তিনি মোলায়েম ভাষায় হাসি দিয়ে উপদেশ দিতেন। যেন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখলাকে হাসানা।
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ.
‘আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছ, যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত।’ {সূরা আলে ইমরান: ১৫৯} এ চরিত্রেরই বাস্তব অনুশীলন ছিল আমাদের হুজুরের মাঝে।
সে বছর মালিবাগে সবক শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরের ঘটনা। জানতে পারলাম, আজ বাদ আসর মসজিদের দ্বিতীয় তলায় সাহিত্য মজলিসের গ্রুপ নির্ধারণের পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা নেবেন আবুল ফাতাহ সাহেব হুজুর। সাহিত্যামোদী ছাত্ররা খাতা-কলম নিয়ে উপস্থিত। হুজুর প্রথমে সাহিত্য বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের একটি বিকাল’ -এ শিরোনামে আপনাদের জীবনের একটি বিকাল নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখতে হবে। সময় আধা ঘণ্টা। তাঁর সামনে বসেই সকলকে লিখতে হল। পরদিন সাহিত্য মজলিসের তালিকায় দেখি, আমার নাম প্রথম গ্রুপে রয়েছে। এতে খুবই আনন্দিত হই। আবুল ফাতাহ রহ. আমাকে দেখে বলেন, যে কয়টি লেখা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে তার মাঝে আপনারটিও একটি। লালবাগ মাদরাসায় পড়াকালে একদিন বিকালে শাহবাগের জাতীয় যাদুঘরে গিয়েছিলাম। জীবনের প্রথম যাদুঘর দেখার স্মৃতিময় বিকালের বিবরণ সে দিন আমি লিখেছিলাম। এর মাস ছয় পরের কথা। একদিন তিনি আমাকে বলেন, ক্লাসের সব কিতাব পড়ার পর সাহিত্যচর্চা করার জন্য প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় বের করবেন।
সে বছর খতমে বুখারী শরীফ উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুআর মাহফিলের ঘটনা। মসজিদের নিচতলায় আসরের পর মাহফিল শুরু হল। বাদ মাগরিব বুখারী শরীফের শেষ হাদীস পড়ার পর তাকরীর ও বয়ান করবেন বড় হুজুর হযরত মাওলানা কাজী মু‘তাসিম বিল্লাহ রহ.। বাদ আসর বয়ান করলেন হযরত আল্লামা আবুল ফাতাহ সাহেব। তিনি ইমাম বুখারী রহ. ও সহীহ বুখারীর উপর অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বয়ান পেশ করেন। তাঁর মুচকি হাসিমাখা শ্রুতিমধুর কথা সকলের প্রাণ ছুঁয়ে যায়। সে মজলিসে উপস্থিত শ্রোতামণ্ডলী তাঁকে ধন্য ধন্য করতে থাকে।
মালিবাগ জামিয়ায় ২০১০ ইং. সালে ত্রিশ সালা দস্তারবন্দী সম্মেলন হয়। এ সম্মেলন উপলক্ষ্যে একটি স্মারক প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। স্মারকের লেখার জন্য মালিবাগের প্রাক্তন ছাত্রদের জমায়েত করা হয়। সে অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর কথকতায় সকলকে লেখা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। একপর্যায়ে হাসিমাখা মুখে তিনি বলেন, এ ধরনের একটি স্মারক বের করার জন্য আমি একাই যথেষ্ট। কেউ কোনো লেখা না দিলেও আমিই স্মারকটি বের করতে পারব। এ স্মারকটি হবে ঐতিহাসিক দলীল। যারা লেখা দিবেন তারা হবেন ইতিহাসের অংশ। লেখা না দিয়ে আপনি ইতিহাস থেকে পেছনে পড়ে যাবেন। তাঁর এসব কথা শ্রোতাদের কানের ভেতর দিয়ে মরমে প্রবেশ করে।
‘কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো,
আকুল করিল মোর প্রাণ।’
অনেকেই তখন লেখা দেয়ার প্রত্যয় গ্রহণ করেন। সেদিন তিনি আমাকে বলেন, আপনার জন্য আমি একটি বিষয় নির্বাচন করেছি। তা হল, কওমী মাদরাসা : সমাজে এর প্রভাব। বিষয়টি নিয়ে আপনি সুন্দরভাবে সবিস্তারে লিখবেন। আমি বলি, আপনি যখন আমার জন্য চয়েজ করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমি এ বিষয়ে লিখব। এর কিছুদিন পর বাদ আসর মালিবাগের আনসার কোয়ার্টার মসজিদে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করি। উদ্দেশ্য, এ লেখাটির তথ্য উপাত্ত ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা। তিনি এ বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করেন। এ ছাড়াও লেখালেখি ও সাহিত্যের নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেন। কিছুদিন পর আমি লেখাটি তৈরী করে আবার এ মসজিদে যাই। তিনি আমাকে বসিয়ে রেখে পুরো লেখাটি ধ্যানমগ্ন হয়ে পাঠ করেন। এরপর আমাকে হৃদয় মিশিয়ে ধন্যবাদ দেন। সে দিন চা নাশতা খেয়ে ইশার সময় তাঁর কাছ থেকে বিদায় হই। স্মারক প্রকাশিত হওয়ার পর উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ. আমার লেখাটির অনেক প্রশংসা করেন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ভূতপূর্ব সম্মানিত খতীব হযরত মাওলানা উবায়দুল হকের ওফাতের পর তাঁর ভক্তবৃন্দ তাঁর সম্পর্কে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত করেন। এর লেখা সংগ্রহ ও সম্পাদনার দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়। আমি আবুল ফাতাহ সাহেব হুজুরের সঙ্গে একটি লেখার জন্য যোগাযোগ করি। তিনি এতে সাড়া দেন। খতীবে মিল্লাত মাওলানা উবায়দুল হক সাহেবের স্মরণে নিবেদিত এ সঙ্কলনের নাম দেই আকাশছোঁয়া মিনার। এ গ্রন্থে তাঁর লেখাটি মুদ্রিত হয়েছে।
হযরত মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া অনেক দিন আমাকে বলেছেন, আপনার আব্বা একজন সাহসী ও আদর্শবান মানুষ। বেফাকুল মাদারিসের বিভিন্ন মিটিংয়ে দেখেছি, তিনি যা সত্য ও সঠিক বুঝতেন, তা-ই বলতেন। কোন ব্যক্তি বিশেষের খুশি অখুশির কোন পরোয়া করতেন না। এর বিপরীতে অনেককে দেখেছি, নিজস্ব কোন মত নেই। অপরের মনোরঞ্জনের চিন্তায় গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেন।
একদিন আমি তাঁকে সবিনয়ে অনুরোধ করি, হুজুর! আপনি আমার আব্বাকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখুন, আমরা একটি স্মরণিকা বের করব। তিনি বলেন, আপনার আব্বার স্মরণিকা তো প্রকাশিত হয়েছে। উত্তরে আমি বলি, এরপর আরও অনেকগুলো স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধ লিখিত হয়েছে। এগুলো নিয়ে আরও একটি স্মারক প্রকাশিত হবে। আমার বারংবারের অনুরোধে তিনি একটি লেখা দিয়ে আমাদের ধন্য করেন। এ লেখায় তাঁর আজীবন গোপন রাখা একটি বিরল কথা রয়েছে। তা হল, তিনি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছিলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখা প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে রয়েছে: مَنْ رَآنِي فِي المَنَامِ فَقَدْ رَآنِي فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَتَمَثَّلُ بِي. -‘যে ব্যক্তি স্বপ্নযোগে আমাকে দেখল, সে প্রকৃতপক্ষেই আমাকে দেখল। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।’ (সুনানুত তিরমিযী: ২২৭৪) তাঁর এ লেখাটি নিয়ে অচিরেই ‘আশরাফ’ নামে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।
হযরত মাওলানা আবুল ফাতাহ রহ. মাদরাসায় হাদীস পড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীবের দায়িত্বও পালন করেন। একদিন তিনি বলেন, মানসাবে নবুওয়ত যে কত কঠিন, নবী রাসূলগণ সর্বসাধারণকে ঈমানদার বানানোর জন্য কী পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁরা কী পরিমাণ মানসিক চাপ ও নির্যাতনের লক্ষস্থলে পরিণত হয়েছেন, তা ইমামতী করার দ্বারা কিছুটা উপলব্ধি করা যায়। শুধু মাদরাসায় পড়ালে এ উপলব্ধি পুরোপুরি হয় না।
আল্লামা আবুল ফাতাহ রহ. আমাদের মাঝে নেই। তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যয় করেছেন তাঁর ছাত্রদের পেছনে, তাঁর উস্তাযদের নির্দেশ পালনে, সহকর্মীদের সহযোগিতায়। বিভিন্ন মসজিদে ইমামতী করার সুবাদে সর্বসাধারণের খেদমতেও তাঁর জীবনের বিরাট অংশ ব্যয় হয়েছে। এ সব কাজে তাঁর আত্মত্যাগের মানসিকতাই ছিল মুখ্য। নিজের স্বার্থচিন্তা তাঁকে আবিষ্ট করেনি। তাঁর এ ত্যাগের আদর্শ সকলকে প্রাণিত করুক। কবির ভাষায়,
‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
লেখক : শায়খুল হাদীস, মারকাজুল উলূম আল-ইসলামিয়া, মুগদা, ঢাকা-১২১৪
