কওমি মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুক্তি : হাইআ যা বলছে

কওমি মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুক্তি, হাইআ যা বলছে

রাগিব রব্বানি :

শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে বিশেষ কোর্স চালুর ব্যাপারে হাইআতুল উলয়া অফিসিয়ালি এখনও অবগত নয় বলে জানিয়েছেন বোর্ডটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে তাঁরা বলেছেন, কওমি মাদরাসায় প্রাথমিক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের দুয়েকটি পাঠ আছে, আলাদাভাবে কোর্সের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।

কওমি মাদরাসাগুলোর সম্মিলিত এ শিক্ষাবোর্ডের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও গহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমীন বলেন, সংবাদমাধ্যম মারফত শুনেছি কওমি মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধের পাঠ সন্নিবেশের লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয় একটা কোর্স চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে সেটা অফিসিয়ালি আমাদের এখনও জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পাঠ সন্নিবেশ করা ভালো একটা উদ্যোগ, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে কওমি মাদরাসার ছেলেদের জন্য নিজ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মোটামুটি বিস্তারিত ইতিহাস জেনে রাখা আবশ্যক এবং দরকারিও, তবে এর প্রক্রিয়া কেমন হবে, সেটা ওলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা-সংশ্লিষ্টরা নির্ধারণ করবেন। শিক্ষামন্ত্রণালয় যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের সঙ্গে অবশ্যই এ ব্যাপারে তারা আলাপে আসবেন। তখন বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে কী করা যায়। এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।

একই কথা বলছেন জামিয়া গহরপুর সিলেটের মুহতামিম ও হাইআতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজুও। তিনি ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, আমাদের মাদরাসা-সিলেবাসের প্রাথমিক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ইতিহাসের আলাদা ক্লাস আছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধেরও দু-একটি পাঠ সন্নিবেশিত আছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের ছাত্রদের অবগতি থাকা অবশ্যই দরকারি, কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতক পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নহীন পরিচ্ছন্ন ইতিহাস সংকলিত হয়নি। একেক সরকারের আমলে একেক ধরনের ইতিহাস তৈরি হয়ে আসছে, যার ফলে কওমি সিলেবাসে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মুসলেহুদ্দীন রাজু বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে যে কোর্সের সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে সরকারপক্ষ অবশ্যই আলাপে আসবে, তখন এ ব্যাপারে হাইআর অফিসিয়ালি মতামত জানা যাবে। তবে ওলামায়ে কেরাম দেশের দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মাদরাসায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আমার জানামতে কখনোই দ্বিমত করেননি, করবেনও না। একটি পক্ষ চাইছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আর আলেম-ওলামার দৃষ্টিভঙ্গি—এ দুটোকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করাতে। এটা কখনো কাম্য নয়।

তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরাম সবসময় দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সিলেবাসভুক্ত করার সদিচ্ছা তাঁদেরও আছে অনেক আগ থেকে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা থেকে যাবার কারণে তাঁদের পক্ষে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই আমাদের জন্য এখন যেটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, এবং সেটাই ছাত্রদের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা। যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তন না হয়ে যায় এবং এক প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপর প্রজন্মের শিক্ষার্থীর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাস জানায় বৈপরীত্য ও বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

উল্লেখ্য, কওমি মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বরের মাসিক সমন্বয় সভায় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি অভিন্ন কোর্স করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে পাঠ দান করা হবে দেশের প্রতিটা কওমি মাদরাসায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নীতিবোধ ও সর্বজনীন মানবাধিকার স্বচ্ছ করতে অভিন্ন একটি কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ইংরেজি মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ও গ্লোবাল স্টাজিজ’ পড়ানো হচ্ছে। এই আদলে কওমি মাদরাসার জন্যও একটি কোর্স তৈরি করবে সরকার।’

আগের সংবাদনামাজ পড়া আর দাঁড়ি রাখা লোক আমি পছন্দ করি : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদপাঁচদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই পাগলা মিজান