অনুষ্ঠানে ছাত্র নিহত : অভিযোগের তীর প্রথম আলোর দিকে

অনুষ্ঠানে ছাত্র নিহত : অভিযোগের তীর প্রথম আলোর দিকে

ফাতেহ ডেস্ক :

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দৈনিক ‘প্রথম আলো’র কিশোর ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র অনুষ্ঠান কিআনন্দে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোর শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র।

আবরারের সহাপাঠীদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটায় সে বিদ্যুতায়িত হয়। তাৎক্ষণিক অনুষ্ঠানে থাকা কিশোর আলোর মেডিক্যাল টিম তাকে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি, মাত্র ৫ মিনিট দূরত্বে থাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে তাকে কিশোর আলো’র মেডিক্যাল সহযোগী প্রতিষ্ঠান, পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বের মহাখালী আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ফোন অপারেটর লোকমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিকাল সোয়া ৪টায় আবরারকে আমাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। আমাদের কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রীকান্ত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল ৪টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এদিকে অনুষ্ঠানের বিঘ্নতা সৃষ্টির আশঙ্কায় আবরারের বিদ্যুৎস্পৃষ্টের খবর কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ পুরো অনুষ্ঠান শেষ হওয়া অবধি চেপে যায়। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে আবরারের আহত হওয়া থেকে মারা যাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের খবরই মঞ্চ থেকে প্রচারিত হয়নি। বরং সন্ধ্যায় যথামাফিক ধুমধামের সঙ্গে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

এতে আবরারের সহপাঠীরাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার জন্ম হয়েছে প্রথম আলোকে ঘিরে। অনেকে আবরারের নিহত হওয়াকে হত্যাকাণ্ড আখ্যায়িত করে এ হত্যায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন।

এদিকে রেসিডেন্সিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রথম আলো’র বিচার দাবি করে আজ কলেজের সামনে বিক্ষোভ করেছে। ‘আমার ভাই মারা গেলো, কিশোর আলো চুপ কেন?’, ‘কিশোর আলোর অমানবিকতা মানি না মানবো না’ স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায় তারা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগকারীরা বলছেন, আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবার পর তাকে অনুষ্ঠানস্থলের একদম পাশে থাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে কেন পাঁচ কিলোমিটার দূরের আয়েশা মেমোরিয়ালে নিয়ে যাওয়া হলো। যাত্রাপথে যে ৪৫ মিনিট খরচ হয়েছে, এই ৪৫ মিনিটের ভেতরে যদি তাকে চিকিৎসা দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো এই তাজা প্রাণ ঝরে পড়ত না এভাবে।

এ ছাড়া এমন মর্মান্তিক একটা ঘটনার পরও মঞ্চ থেকে এ ব্যাপারে একটা ঘোষণাও না আসায় কিশোরদের প্রতি প্রথম আলো কতটা দায়িত্বশীল, এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা। তাঁরা বলছেন, একদিকে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসা হতভাগ্য এক কিশোর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, আর অপরদিকে অনুষ্ঠানে চলছে নাচ-গান। ব্যাপারটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিতান্তই লজ্জা ও অপমানের।

আগের সংবাদশুদ্ধি অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না পরিবহন-চাঁদাবাজি
পরবর্তি সংবাদবিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের আপ্যায়ন ও আবাসনব্যবস্থায় নোয়াখালীর আলেম সমাজ