ফাতেহ ডেস্ক :
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আপ্যায়নে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছেন নোয়াখালীর আলেমসমাজ। জেলা শহরের বিভিন্ন মাদরাসা-মসজিদে তাদের রাত্রিযাপন ও খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তারা। এর দ্বারা জনসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাদরাসাশিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছেন সাধারণ দীনদার মানুষ ও তাবলিগের সাথিরা। জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং স্বেচ্ছাসেবী ও আগত অতিথিদের তথ্যসেবা প্রদান করছে।
নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বিদ্যাপীঠ আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া (আল-আমিন মাদরাসা) মাইজদীর প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা আজিজুল্লাহ নওয়াব বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত ভর্তিচ্ছু ছাত্র ও অভিভাবকদের সেবা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। নোয়াখালীর চৌরাস্তা থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ছয়টি পয়েন্টে আমাদের ছাত্ররা কাজ করছে। তারা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কেন্দ্রের কাছাকাছি মসজিদ-মাদরাসায় থাকা, বিশ্রাম গ্রহণ, কেন্দ্রে যাতায়াতে সহযোগিতা, নিরাপত্তা পরামর্শ, তথ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও তাদের অভিভাবকরা আমাদের অতিথি। তাদের যথাসাধ্য সমাদর করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। মহানবি সা. অতিথির সম্মানজনক আপ্যায়ন ও সেবা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত (বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক) অভিভাবক জহিরুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি। তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছি আলেমদের এই কাজে যুক্ত দেখে। নোয়াখালীর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তাদের চেষ্টা ও আন্তরিকতাও চোখে পড়ার মতো।
তিনি আরো বলেন, কোনো মাদরাসার পরিবেশে রাত কাটানো এটাই প্রথম। একটি অচেনা জায়গায় এতটা স্বস্তিতে থাকতে পারব আশা করিনি। আমি নোয়াখালীবাসী ও নোয়াখালীর আলেমদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের খতিব মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি আলেমরাও অতিথি আপ্যায়নের নিজস্ব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সাধারণ মানুষ আলেমদের অংশগ্রহণ স্বাগত জানিয়েছে এবং তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। নোয়াখালী শহরের মদিনাতুল উলুম মাদরাসাসহ একাধিক মাদরাসা ও মসজিদ এই সেবায় নিয়োজিত।
উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ লক্ষাধিক মানুষের বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়া, পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, আলেম-উলামা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ একযোগে কাজ করছে।
