অটো ব্রেকে ইট রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী–দুজনই

অটো ব্রেকে ইট রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী–দুজনই

ফাতেহ ডেস্ক :

গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তূর্ণা নিশীথা’র চালক ও সহকারী চালক দুজনই ঘুমিয়ে পড়ার কারণে। চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী অপু-দে অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে তারা সিগন্যাল দেখতে না পেয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। এমনটা জানিয়েছেন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তাদের এমন গাফলতির কারণে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তূর্ণার দায়িত্বরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি চালক ও সহকারী অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন।

তিনি বলেন, ট্রেন অটো ব্রেক সিস্টেমে চলে। ট্রেন তখনই চলে যখন ওই ব্রেক সিস্টেমে পা বা অন্য কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়। ব্রেকে চাপ না দিলে ট্রেন চলে না। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় পৌঁছার আগেই ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তূর্ণার চালক ও সহকারী।

তূর্ণা নিশীথা বিরতিহীন ট্রেন। মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মেইন লাইন থেকে লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনের নয়টি বগি লুপ লাইনে চলে যাওয়ার পর দশম বগিতে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা। অথচ তূর্ণাকে সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে ১০ এবং হাসপাতালে নেয়ার পর ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন ৭৪ জন। সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের লুপলাইনের মুখে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, আউটার ও হোম সিগন্যালে লালবাতি (সতর্ক সংকেত) দেয়া ছিল। কিন্তু তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আগের সংবাদগাজায় ইসরাইলের বর্বরোচিত ধারাবাহিক হামলা, শহিদ ১০, আহত ৪৫
পরবর্তি সংবাদকাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, নিহত ১৬